এনামুল হক,পঞ্চগড়
দেশের উত্তরের খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা পঞ্চগড়ে ভরা বর্ষা মৌসুমেও দেখা দিয়েছে খরা। প্রায় ২৫ দিন ধরে ভারি বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমন চাষে দেখা দিয়েছে বিপর্যয়। জমিতে পানি না থাকায় রোপা আমন ধানের চারা রোপণ শুরু করতে পারছেন না কৃষকরা। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার হাজারো কৃষক।
অন্যদিকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় যেখানে বন্যা দেখা দিয়েছে, সেখানে পঞ্চগড়ের মাঠ-ঘাট খাঁ খাঁ করছে পানির অভাবে। আষাঢ় মাস প্রায় শেষের দিকে, অথচ কৃষিজমিতে দেখা মিলছে না কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির। মাঝে মাঝে হালকা ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হলেও তা চাষাবাদের জন্য যথেষ্ট নয়।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, “গত বছর ১০ আষাঢ়ের মধ্যেই আমন চারা রোপণ করেছিলাম। এবার এখনো জমি হালচাষ করতেই পারিনি। যদি সময়মতো চারা রোপণ করতে না পারি, তাহলে ফলন কমে যাবে।”
দেওয়ানহাট গ্রামের কৃষক দুলাল হোসেন জানান, “অনাবৃষ্টির কারণে চাষে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জমিগুলো শুকিয়ে গেছে, হালচাষ করা যাচ্ছে না। অথচ বীজতলার চারা ইতোমধ্যে রোপণের উপযোগী হয়ে উঠেছে।”
তুলার ডাঙ্গা এলাকার কৃষক আবুল হোসেন বলেন, “এই সপ্তাহের মধ্যে ভারি বৃষ্টি না হলে বাধ্য হয়ে সেচ দিয়ে রোপা আমন লাগাতে হবে। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে।”
পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, যে মাঠগুলোতে এই সময়ে হাঁটু পরিমাণ পানি থাকার কথা, সেখানে জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। কিছু নীচু জমিতে সীমিত আকারে সেচের মাধ্যমে চাষাবাদ শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, “মৌসুমি বায়ু নিষ্ক্রিয় থাকায় এখনো ভারি বৃষ্টি হয়নি। তবে আগামী সপ্তাহে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।”
পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মতিন বলেন, “আমন চাষের এখনও যথেষ্ট সময় রয়েছে। বৃষ্টি হলে পুরোদমে চাষ শুরু হবে।” তিনি জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৩৭৪ মেট্রিক টন ধান।
আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা ও সময়ের চাপের মধ্যে পড়ে বর্তমানে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন পঞ্চগড়ের কৃষকেরা।

