হুমায়ুন কবির মিরাজ, বেনাপোল
২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলে যশোরের শার্শা উপজেলায় মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপজেলাটির ২৯টি মাদ্রাসা থেকে অংশ নেওয়া ৭৮৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৩৭১ জন। ফেল করেছে ৪২৫ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৫৪ শতাংশ। উপজেলার গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৭.২ শতাংশ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—পুরো উপজেলায় জিপিএ–৫ পেয়েছে মাত্র ৪ জন শিক্ষার্থী।
এমন ভয়াবহ ফলাফলে অভিভাবক, শিক্ষক সমাজ ও সচেতন মহলে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, বেশ কিছু মাদ্রাসায় নেই মানসম্মত পাঠদান, অনেক শিক্ষক ক্লাসে অনিয়মিত এবং সঠিক তদারকি ব্যবস্থাও অনুপস্থিত। ফলে শিক্ষার্থীরা ন্যূনতম মেধার পরীক্ষা পাস করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
ফলাফলে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে রয়েছে—
বসতপুর ফাজিল মাদ্রাসা: ২৬ জনের মধ্যে পাস ২ জন
সামটা ছিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদ্রাসা: ৩১ জনে ৯ জন
মহিষা পীর আব্দুস সোবাহান আলিম মাদ্রাসা: ৩৮ জনে ৮ জন
নাভারণ মহিলা আলিম মাদ্রাসা: ১৫ জনে ২ জন
বাগআঁচড়া মহিলা আলিম মাদ্রাসা: ১৭ জনে ৪ জন
কায়বা বাইকোলা উসমানিয়া দাখিল মাদ্রাসা: ২২ জনে ২ জন
লক্ষণপুর দারুল হাদিস দাখিল মাদ্রাসা: ২০ জনে মাত্র ১ জন
রাড়ীপুকুর মহিলা দাখিল মাদ্রাসা: ১১ জনে ১ জন
এমন ফলাফলে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বলছেন, যেসব মাদ্রাসায় প্রতি বছর মাত্র ১–২ জন পাস করে, সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন বন্ধ করা বা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়ার সময় এসেছে। তাদের মতে, ধর্মীয় শিক্ষার মান রক্ষায় প্রয়োজন কঠোর পদক্ষেপ।
শার্শা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নুরুজ্জামান জানিয়েছেন, ফল বিপর্যয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা সুপারদের ইতিমধ্যে মৌখিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, এমন ফলাফল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি শিগগিরই মাদ্রাসা সুপার ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করবেন এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয় নির্ধারণ করবেন।
এই ফলাফলের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—শার্শার মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে। শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, এখন প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ, সুশৃঙ্খল শ্রেণি কার্যক্রম এবং জবাবদিহিমূলক মনিটরিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। তা না হলে ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় আস্থা হারাবে আগামী প্রজন্ম।

