তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীকে মূলধারার শিক্ষা ও সমাজে অন্তর্ভুক্ত করতে এক যুগান্তকারী কর্মশালার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দিনব্যাপী কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয় গাজীপুরে বাউবির মূল ক্যাম্পাসের সেমিনার হলে।
“তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার মূল ধারায় অন্তর্ভুক্তকরণ এবং রাষ্ট্র ও সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের করণীয়।”
কর্মশালার প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাউবির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন,“তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী যেন সমাজের সকল বাধা অতিক্রম করে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়, সেটিই আমাদের অঙ্গীকার। তাদের অন্তর্ভুক্তিতে বাউবি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। এমনকি প্রয়োজনে আমাদের নিয়োগ নীতিমালাও শিথিল করা হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন,“তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে উচ্চশিক্ষার পথকে সুগম করতে হবে। বাউবি এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিতে চায়।”
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সাঈদ ফেরদৌস। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম।
বক্তারা বলেন, “বাংলাদেশে শিক্ষা সবার জন্য খোলা থাকা উচিত। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সেই চেতনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।”
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিরা তাদের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
তানিশা ইয়াসমিন চৈতি বলেন,“আমার জন্মটাই যেন অভিশাপ। পরিবার ও সমাজ আমাকে ত্যাগ করেছে। অথচ অন্য প্রতিবন্ধী বা অসহায় সন্তানের পাশে পরিবার থাকে। আমাদের ক্ষেত্রে উল্টোটা।”
প্রিয়া হিজরা বলেন,“শৈশব থেকে সমাজের অবজ্ঞা, নিরাপত্তাহীনতা আর বঞ্চনার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা—এই কষ্টের গল্প সবার জীবনে একইরকম।”
কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধি, বাউবির শিক্ষার্থী, বিভিন্ন স্কুলের ডিন, রেজিস্ট্রার, পরিচালক, আঞ্চলিক পরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি ও গবেষকরা অংশগ্রহণ করেন।
তারা তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের জন্য নমনীয় ভর্তি নীতি, বিশেষ শিক্ষা উপকরণ এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনার প্রেক্ষিতে এসব বিষয়কে ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এই উদ্যোগকে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা।
কর্মশালার শেষ অংশে রংপুরের এনজিও “পার্টিসিপেটরি অ্যাডভান্সমেন্ট সোস্যাল সার্ভিস (পাশ)”–এর নির্বাহী পরিচালক ও গবেষক কে এম আলী সম্রাট উপাচার্যকে ‘লোককথা, পুঁথি সাহিত্য ও হিজরা জনগোষ্ঠীর ওপর রচিত গ্রন্থসমূহ’ উপহার প্রদান করেন।

