যশোর প্রতিনিধি
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরা এলাকায় বিএডিসির আওতাভুক্ত সেচ পাম্পের পাঁচটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার চুরি হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছে প্রায় ৩০০ বিঘা জমির আমন ধান। গত ২৬ আগস্ট রাতে বন্দবিলা ইউনিয়নের নিমটা মাঠে এ চুরির ঘটনা ঘটে। এতে মাঠের সেচ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
চুরির পর প্রায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো একটি ট্রান্সমিটারও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ অবস্থায় সময়মতো পানি না পেলে ধান গাছ শুকিয়ে মারা যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠজুড়ে ধানের আবাদ হলেও খেতে পর্যাপ্ত পানি নেই। নিচু জমিতে অল্প কাদাপানি থাকলেও উঁচু জমিগুলো শুকিয়ে গিয়ে ফেটে যাচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, এই সময়ে সঠিকভাবে সেচ না দিলে ধানের শীষ বের হওয়াই কঠিন হয়ে যাবে।
কৃষক অচিন্ত ঘোষ জানান, “দুই বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। হঠাৎ সেচ পাম্প বন্ধ হওয়ায় পানির অভাবে ধান মারা যাওয়ার আশঙ্কা করছি।”
আরেক কৃষক সুমন বিশ্বাস বলেন, “আজকালকের মধ্যে পানি না পেলে ধান রক্ষা করা সম্ভব না। চোখের সামনে ধান মরছে, কিছুই করতে পারছি না।”
কৃষক মিহির ঘোষ বলেন, “আমরা এই ধান খেয়ে সারা বছর চলি। এই ধান মরে গেলে না খেয়ে থাকতে হবে।”
স্থানীয়দের তথ্যমতে, চুরি যাওয়া পাঁচটি ট্রান্সমিটারের মধ্যে ৫ কেভিএ ক্ষমতার প্রতিটির দাম প্রায় ৪৫ হাজার টাকা এবং ১০ কেভিএ ট্রান্সমিটারগুলোর দাম ৭৫-৭৭ হাজার টাকা। মোট ক্ষতির পরিমাণ কয়েক লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
বিএডিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারি সহায়তা না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত সেচ মালিককে নিজ খরচে নতুন ট্রান্সমিটার কিনতে হবে। এতে বিপাকে পড়েছেন তারা।
সংকটের খবর পেয়ে শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকালে নিমটা মাঠ পরিদর্শনে যান জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা শামীম আকতার। তিনি কৃষকদের দুর্দশার কথা শোনেন এবং আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান, সাংবাদিক ফরিদুজ্জামান, ইউপি সদস্য মফিজুর রহমান ও শিউলি খাতুনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
খাজুরা পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মাসুম বিল্লাহ বলেন, “বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। গ্রাহকরা ট্রান্সমিটার কেনার জন্য টাকা জমা দিলে দ্রুত সংযোগ চালু করে দেওয়া হবে।”
বাঘারপাড়া থানার ওসি ফকির তাইজুর রহমান বলেন, “ট্রান্সমিটার চোরচক্র ধরতে আমরা তৎপর রয়েছি। খুব দ্রুতই অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
যশোর বিএডিসির সেচ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল রশিদ জানান, “এ বিষয়ে এখনো আমার জানা নেই। সরকারি সহায়তা না থাকায় কৃষকদেরই নতুন ট্রান্সমিটার কিনতে হবে।”

