মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুরে চাঁদার টাকা না পেয়ে একই পরিবারের পাঁচজনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মিন্টু হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নিহতের দুই ভাই, বাবা ও মা। তাঁদের মধ্যে এক ভাইয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মনিরামপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে। পরে শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিন্টুর মৃত্যু হয়। নিহত মিন্টু হাকোবা গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে।
নিহতের ভাই পিকুল হোসেন জানান, হাকোবা এলাকার সাব্বির হোসেন নামের এক ব্যক্তি তাঁর ভাই সেন্টুর চায়ের দোকানে এসে ৫ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাব্বির প্রথমে সেন্টুর চোখে আঙুল ঢুকিয়ে দিতে যায়। পরে দলবল নিয়ে এসে তিন ভাই ও তাঁদের বাবা-মার ওপর এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে।
আবদুল আজিজ, নিহত মিন্টুর বাবা, বলেন, “দুই বছর আগে আমার মেজ ছেলে সেন্টুর ভ্যান চুরি হলে স্থানীয় কাউন্সিলর মোহাম্মদ আজিম ৫ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছিলেন। এরপর আজিম আর টাকা চাননি। কিন্তু সাব্বির নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সেই টাকার দাবিতে চাপ দিচ্ছিল। আমরা বলেছিলাম, আজিমকে সঙ্গে আনলে টাকা দেব। কিন্তু সাব্বির কাউন্সিলরকে আনতে পারেনি। শেষমেশ আমাদের পুরো পরিবারের ওপর হামলা চালায়।”
এই ঘটনায় নিহত মিন্টুর মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে মনিরামপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ ও দুজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে ফারুক ও ছোট সাব্বির নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মূল হোতা বড় সাব্বির পলাতক রয়েছে।
মনিরামপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অরূপ ঘোষ বলেন, “প্রধান আসামিকে ধরতে অভিযান চলছে।”
এদিকে স্থানীয় যুবলীগ নেতা ও হাকোবা ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আজিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

