রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রংপুর, রঘুনাথপুর, ধামালিয়া, মাগুরাঘোনা, খর্ণিয়া, আটলিয়া, গুটুদিয়া ও ডুমুরিয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত প্রায় ৪০টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার পরিবার চলমান বর্ষায় চরম জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছেন। ১০ জুলাইয়ের পর ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে এসব এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ঘরবাড়ি, রাস্তা, মাছের ঘের ও কৃষিজমি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
পানিবন্দী অবস্থায় থাকা গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে মুজারঘুটা, বারানসি, সাড়াভিটা, বটবেড়া, কৃষ্ণনগর, দেড়লি, বশিরাবাদ, আন্দুলিয়া, কোমরাইল, চেচুড়ি, কাটেঙ্গা, টোলনা, বরুনা, গজেন্দ্রপুর, রুপরামপুর, রামকৃষ্ণপুর, শান্তিনগর, ঘোনা, বিলপাটিয়ালা, মাধবকাটি, মান্দ্রা, ময়নাপুর, বিলসিংগা, রানাই, পাঁচপোতা, ঘোষড়া, বাদুড়িয়া, আলাদিপুর, আটলিয়া, বয়ারশিং, আধারমানিক, খড়িয়া, কোমলপুর, গুটুদিয়া, পাটকেলপোতা, মির্জাপুর, হাজিডাঙ্গা, গোলনা, খলসী, সাজিয়াড়া ও আরাজি ডুমুরিয়া।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে খুলনার নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর)সরেজমিনে জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি উপজেলার শলুয়া স্লুইজগেটসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এলাকাবাসীর নানা পরামর্শও তুলে ধরা হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড তিন ধাপে কাজ শুরু করেছে। স্বল্পমেয়াদে জরুরি পলি অপসারণের মাধ্যমে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মধ্যমেয়াদে খাল পুনঃখনন এবং দীর্ঘমেয়াদে নদী খনন, পাম্প স্থাপন ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বর্তমানে ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে শৈলমারী গেট থেকে সালতা মোহনা পর্যন্ত নদীর পলি অপসারণের কাজ চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনা ডিভিশন-১ কর্তৃক বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে বর্ষা মৌসুমজুড়ে প্রয়োজনীয় স্থানে খননের কাজ করা হবে।
অন্যদিকে, ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে শৈলমারী নদীর সাড়ে ১৫ কিলোমিটার ড্রেজিং, ৫টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প স্থাপন ও ২৪টি খাল পুনঃখননের জন্য পৃথক একটি প্রকল্পের সমীক্ষা চলমান রয়েছে। পরিবেশগত ছাড়পত্রসহ আনুষঙ্গিক অনুমোদনের পর প্রকল্পটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ডুমুরিয়া, ফুলতলা ও আশপাশের এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। এতে করে মৎস্য ঘের, কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও রক্ষা পাবে।
জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

