যশোর প্রতিনিধি
যশোর শহরতলীর ধর্মতলা রেলক্রসিংয়ের কাছে গর্ভবতী গাভী জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার দুপুরে অধিদপ্তরের যশোর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সেলিমুজ্জামানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে দোকান মালিক নজরুল কসাইসহ তিন কর্মচারীকে আটক করা হয়।
অভিযানে মা-বাবার দোয়া মিট হাউজ থেকে অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় সংরক্ষিত প্রায় ১২ কেজি মাংস, ৯টি চাপাতি, বিএসটিআই সনদবিহীন একটি ডিজিটাল পাল্লা ও হিসাবের খাতা জব্দ করা হয়। এর আগে দোকানটি থেকে প্রায় ৭০–৮০ কেজি মাংস বিক্রি হয়ে যায়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী নজরুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং আদায় করা হয়। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তার গরু জবাই ও মাংস বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
নজরুল কসাই স্বীকার করেন, একটি গাভী স্থানীয় এক মালিকের কাছ থেকে কিনে এনে বৃহস্পতিবার ভোরে জবাই করেন। পরে গাভীর পেটে ৬–৭ মাস বয়সী মৃত বাছুর পাওয়া গেলে সেটি ফেলে দিয়ে মাংস বিক্রি শুরু করেন। সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত মাইকিং করে কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকা দরে মাংস বিক্রি হয়।
অভিযানে জেলা ক্যাবের সদস্য আব্দুর রহিম সরদার অপু, সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা কিশোর কুমার সাহা, জেলা সিভিল সার্জন অফিসের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নাজনীন নাহার ও পুলিশের একটি টিম উপস্থিত ছিলেন।
উপ-পরিচালক সেলিমুজ্জামান জানান, ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রতারণার দায়ে জরিমানা করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে।

