মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নে টিসিবি বরাদ্দকৃত ৭৭.৮৩৫ মেট্রিক টন (প্রায় ৭৮ টন) চাল ব্যক্তিগত গুদামে মজুদ করার অভিযোগে উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাতের অভিযান শেষে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ওই চাল জব্দ করেন।
স্থানীয়রা জানায়, টিসিবি’র বরাদ্দকৃত চালটি ওএমএস ডিলার হোসনেয়ারা কান্তা (স্বত্বাধিকারী: মেসার্স ঋতু ট্রেডার্স) গুদামে মজুদ করে রেখেছিলেন; তার স্বামী নুর মোহাম্মদ পুনরায় বিনোদপুর ইউনিয়নের একজন বিএনপি কর্মী বলে জানা গেছে। দুই মাস ধরে চাল বিতরণ না করা এবং অনুযায়ী উপকারভোগীদের না দেওয়ার অভিযোগে বিষয়টি সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে অভিযান চালিয়ে চাল উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আক্তারের নির্দেশে বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুস সোবহান, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মনজুর রহমান ও প্রেস ক্লাব সভাপতি মো. আজিজুর রহমান টুটুল উপস্থিত ছিলেন অভিযানকালে। উদ্ধারকৃত চাল বর্তমানে মহম্মদপুর ও বিনোদপুর খাদ্য গুদামে জব্দ রাখা হয়েছে।
অভিযান ও তদন্ত প্রসঙ্গে জানানো হয়, ঘটনার পর ১৬ সেপ্টেম্বর তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে ছিলেন—উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মজনুর রহমান, কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সোবহান ও আইসিটি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। তাদের তদন্তে মজুদকৃত চাল উদ্ধারের সুপারিশ করা হয়।
এ ব্যাপারে জেলা বা উপজেলা প্রশাসন ওই ডিলারের ডিলারশিপ বাতিল করে দিয়েছে; তবে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কোনো শক্তিশালী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া না হওয়ায় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এলাকাবাসী ও সুবিধাভোগীরা প্রশাসনের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং সিন্ডিকেট ভাঙা ও প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন।
উল্লেখ্য, উপজেলায় মোট ৮টি ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার ৫৬৭ জন স্মার্টকার্ডধারীর জন্য জুলাই মাসে বরাদ্দকৃত চালটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৩ লাখ টাকার মধ্যে। চাল অনিয়মের খবর টেলিভিশন ও সংবাদপত্রে প্রচারিত হলে প্রশাসন কার্যকরভাবে ব্যবস্থা নেয়।

