যশোর প্রতিনিধি
যশোরের কৃষকদের মুখে হাসি ফুঁটিয়েছে আগাম শিম চাষ। চলতি মৌসুমে জেলায় ৪৬৫ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের শিম চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে যশোর সদর উপজেলায় ১০৫ হেক্টর জমিতে। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম চাষ হয়েছে অভয়নগর উপজেলায়, মাত্র ২০ হেক্টরে। অতিবৃষ্টির কারণে ফলন কিছুটা কম হলেও চড়া দামে শিম বিক্রি হওয়ায় কৃষকরা লাভের মুখ দেখছেন।
কাশিমপুর গ্রামের চাষি জাকির হোসাইন জানান, তিনি এবার ২৫ কাঠা জমিতে শিম চাষ করেছেন। মাসখানেকের মধ্যেই ফলন আসতে শুরু করে এবং সর্বশেষ তিনি প্রতি কেজি শিম ১৪০ টাকা দরে পাইকারি বাজারে বিক্রি করেছেন। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি।
শুধু জাকির হোসাইন নন, জেলার অন্যান্য চাষিরাও আগাম শিম চাষ করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলি গ্রামের চাষি বিপুল হোসেন জানান, তিনি চার কাঠা জমিতে শিম চাষ করে ইতোমধ্যে ১১৭ কেজি শিম বিক্রি করেছেন। দাম পেয়েছেন ৯৫ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত।
উজিরপুর গ্রামের ফজলুর রহমান বলেন, “বৃষ্টিতে কিছু ফুল নষ্ট হয়েছিল, ফলন ভালো হয়নি। তবে দাম বেশি পাওয়ায় ক্ষতি পুষিয়ে গেছে।”
যশোরের বিভিন্ন উপজেলায় শিম চাষের পরিসংখ্যান হলো—চৌগাছায় ৯০ হেক্টর, বাঘারপাড়ায় ৭০ হেক্টর, মণিরামপুরে ৬৫ হেক্টর, কেশবপুরে ৫০ হেক্টর, ঝিকরগাছায় ৩৫ হেক্টর এবং শার্শায় ৩০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।
চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাব্বির হোসাইন জানান, “শিম ও টমেটো মূলত শীতকালীন সবজি হলেও এখন হাইব্রিড জাত উদ্ভাবনের ফলে আগাম ফলন সম্ভব হচ্ছে। রূপবান ও রহিম (ইপসা-১ ও ইপসা-২) জাতের শিম আগেভাগেই বাজারে আসায় কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, “দেশের সবজির বড় অংশ যশোর থেকেই সরবরাহ হয়। কৃষকদের নিরাপদ ও অর্গানিক সবজি উৎপাদনে উৎসাহিত করা হচ্ছে।”
বর্তমানে পাইকারি বাজারে শিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় এবং খুচরা বাজারে ২০০ টাকা পর্যন্ত। চাহিদা বেশি, ফলে আগাম শিম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

