সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি
কাতারে কাজ শুরুর দুই দিন আগে মৃত্যুবরণ করা সোনাগাজীর যুবক মহি উদ্দিন সেন্টু (৪০)-এর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাদ আছর আহমদপুর নুরনবী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কাতার থেকে সেন্টুর মরদেহ চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। তার ছোট ভাই মাঈন উদ্দিন রিমন মরদেহ গ্রহণ করেন। দুপুর ১টার দিকে মরদেহ নিজ গ্রামের বাড়ি আহমদপুরে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশ সময় ২৯ নভেম্বর দিবাগত রাত ১টার দিকে কাতারের আল হামাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মহি উদ্দিন সেন্টু আমিরাবাদ ইউনিয়নের আহমদপুর গ্রামের মকবুল মৌলভী বাড়ির বাসিন্দা এবং সাত ভাইবোনের মধ্যে পঞ্চম ছিলেন। তিনি স্থানীয় আমির উদ্দিন মুন্সীর হাটে ব্যবসা করতেন।
পরিবারের আর্থিক উন্নতির স্বপ্ন নিয়ে তিনি গত ২০ সেপ্টেম্বর ফ্রি ভিসায় কাতারে যান। প্রায় দুই মাস বেকার থাকার পর কাতার স্টেডিয়ামে চাকরি পান এবং ১ ডিসেম্বর থেকে কাজে যোগদানের কথা ছিল তার। কিন্তু ১৯ নভেম্বর সকালে খাবার খেতে খেতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা দশদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।
মহি উদ্দিন সেন্টুর অকাল মৃত্যুতে পরিবারসহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুই কন্যা, স্ত্রী ও স্বজনদের হতাশায় ডুবিয়ে অকল্পনীয় কষ্ট রেখে চলে গেলেন তিনি। ছোট ভাই মাঈন উদ্দিন রিমন জানান, “সম্ভবত দেশে মা, বোন, স্ত্রী, সন্তান ও ভাইদের রেখে বিদেশে দুশ্চিন্তায় থাকায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেখানেই মারা যান।”

