Nabadhara
ঢাকাশুক্রবার , ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খুলনায় ১৫ মাসে ৬২ হত্যা, রূপসায় বাড়ছে আতঙ্ক

রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
ডিসেম্বর ১২, ২০২৫ ২:২৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি

খুলনা জেলার নয়টি উপজেলায় গত ১৫ মাসে ঘটে যাওয়া ৬২টি হত্যাকাণ্ড আবারও প্রশ্ন তুলেছে জেলার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে। পরকীয়া, শত্রুতা, আধিপত্য বিস্তার আর মাদক ব্যবসাকে ঘিরে ঘটেছে এসব হত্যাকাণ্ড। জেলা পুলিশের দাবি—৪৩টি ঘটনার রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে। তবে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর আইন–শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে রূপসা উপজেলায়—মোট ১৫টি। তেরখাদায় সবচেয়ে কম—মোট দুটি। ডুমুরিয়ায় ১১টি, ফুলতলায় ১০টি, দাকোপে সাতটি, কয়রায় পাঁচটি এবং পাইকগাছা, বটিয়াঘাটা ও দিঘলিয়ায় চারটি করে হত্যাকাণ্ড নথিভুক্ত হয়েছে।

গুলিবর্ষণ, শ্বাসরোধ, জখম, পরকীয়া সম্পর্ক, ব্যবসায়িক বিরোধ—বিভিন্ন কারণে প্রাণ গেছে ৬২ জনের। এর মধ্যে ১৯টি মামলা এখনো তদন্তাধীন। এর ১১টি দেখছে জেলা পুলিশ ও আটটি তদন্ত করছে নৌ পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, রূপসা এখন জেলার ‘ক্রাইম হটস্পট’। নদী ও সড়ক পরিবেষ্টিত হওয়ায় অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত এলাকা ত্যাগ করা সহজ। মাদক কারবারের অন্যতম রুটও রূপসা; তাই এলাকায় আধিপত্য নিয়ে সংঘাত নতুন নয়।

জানা গেছে, ফুলতলা, দিঘলিয়া, রূপসা, তেরখাদা, ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটায় রয়েছে অর্ধশতাধিক মাদকের স্পট। শক্তিশালী নেটওয়ার্কের কারণে কারবারিরা এলাকায় প্রভাব বজায় রেখেছে। স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে—এ নেটওয়ার্কে সহযোগিতা করছে কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যও।

এদিকে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর জেলার ৫৩১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। পাইকগাছায় সবচেয়ে বেশি ৩৫টি কেন্দ্র ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ডুমুরিয়ায় ২৭টি, রূপসায় ২৩টি, দাকোপে ১৩টি, কয়রায় ১৪টি, দিঘলিয়ায় আটটি, তেরখাদায় ছয়টি এবং ফুলতলায় চারটি কেন্দ্র আছে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায়।

জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, হত্যাসহ বেশিরভাগ মামলার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। বহু অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দাবি—মাদক কারবারি ও অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আছে পুলিশ।

তবে খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার মনে করেন, নির্বাচনের মাঠে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের উদ্বেগও বাড়ছে। শঙ্কার কারণ তৈরি হচ্ছে আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঘিরে।

সংবাদকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে নবাগত পুলিশ সুপার মাহাবুবুর রহমান বলেন, নির্বাচনকালীন যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত। ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে মাঠে কাজ করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জেলার সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের এই চিত্র আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনে দিয়েছে—নির্বাচনের উত্তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।