Nabadhara
ঢাকাশনিবার , ২ মে ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শ্রীমঙ্গলে এমআর টিকাদানে অনিয়ম, সমন্বয়হীনতায় ঝুঁকিতে শিশুস্বাস্থ্য

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মে ২, ২০২৬ ৪:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌরসভায় চলমান হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচিতে একাধিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। জাতীয়ভাবে শিশুদের সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যে পরিচালিত এ গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের অভাব, তদারকির ঘাটতি এবং দায়িত্বহীনতার কারণে কার্যকারিতা হারাতে বসেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত অনেক টিকাদান কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক ও প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি নেই। গত ২৯ এপ্রিল পৌর শহরের মিশন রোডের একটি কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কোনো স্বেচ্ছাসেবক ছাড়াই একজন অপ্রশিক্ষিত ব্যক্তি শিশুদের টিকা দিচ্ছেন। তিনি জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী অনুপস্থিত থাকায় সাময়িকভাবে সহায়তা করছেন। এ বিষয়ে দায়িত্বে থাকা টিকাদান কর্মী ঝুমুর দাস বলেন, নির্ধারিত স্বেচ্ছাসেবক ব্যক্তিগত কারণে ছুটিতে রয়েছেন।

একই চিত্র দেখা গেছে ৩০ এপ্রিল কোর্ট রোডের একটি ক্লিনিকেও। সেখানে নির্ধারিত সময়ের আগেই টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। এতে টিকা নিতে আসা অভিভাবকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শনে এসে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি কেন্দ্রে অন্তত একজন প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও দুইজন স্বেচ্ছাসেবক থাকার কথা। তবে বাস্তবে অনেক কেন্দ্রেই এই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। কোথাও নার্স নেই, আবার কোথাও অপেশাদারদের দিয়ে টিকা প্রয়োগ করা হচ্ছে—যা শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এছাড়া নির্ধারিত সময়সূচিও মানা হচ্ছে না। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কার্যক্রম চালানোর নির্দেশনা থাকলেও অনেক কেন্দ্র দুপুরের আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে কর্মজীবী অভিভাবকরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। ওয়ার্ডভিত্তিক ক্যাম্পেইনের কথা থাকলেও কোথাও কোথাও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।

টিকা সংরক্ষণেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে শিথিলতা দেখা গেছে। কিছু কেন্দ্রে খোলা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদুল ইসলাম পাবেল বলেন, বিষয়টি নিয়ে পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রশিদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১ মে পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ১৪৬ জন এবং সন্দেহভাজন রোগী ৩৮ হাজার ৩০১ জন। প্রতিদিনই নতুন করে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী শনাক্ত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলমান জরুরি এমআর টিকাদান কর্মসূচির আওতায় অস্থায়ী কেন্দ্রগুলোতে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা বা ৪টা পর্যন্ত এবং স্থায়ী কেন্দ্রগুলোতে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা। বড় শহরগুলোতে কর্মজীবী অভিভাবকদের সুবিধার্থে সময় বাড়ানোর নির্দেশনাও রয়েছে। এই কর্মসূচি উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে ২১ মে ২০২৬ পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে; প্রয়োজনে সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।