একে মিলন,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ফাজিলপুর খেয়াঘাট বৈধভাবে জেলা পরিষদ থেকে ইজারা নেওয়ার পরও ঘাটটির সম্পূর্ণ দখল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ইজারাদার রেজুয়ান করিম। তার দাবি, একই সীমানার মধ্যে আরেকটি ঘাট থেকে টোল আদায় চলতে থাকায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, জেলা পরিষদের নীতিমালায় ইজারাকৃত ঘাটের উজানে এক মাইল ও ভাটিতে এক মাইলের মধ্যে নতুন কোনো ঘাট সৃষ্টি বা ইজারা দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে বালিজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ইজারার কথা বলে মাহতাবপুর এলাকায় একটি খেয়াঘাট চালু করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র যাত্রীদের কাছ থেকে টোল আদায় করছে।
ইজারাদার রেজুয়ান করিম অভিযোগ করেন, মাহতাবপুর ঘাটটি ফাজিলপুর খেয়াঘাটের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে হওয়ায় সেখানে টোল আদায় বন্ধের অনুরোধ করলে তাকে হুমকি দেওয়া হয় এবং মারধরেরও চেষ্টা করা হয়।
পরে তিনি জেলা পরিষদের কাছে অভিযোগ করলে পরিষদের সার্ভেয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাটের সীমানা নির্ধারণ করে লাল নিশান টাঙিয়ে দেন এবং মাহতাবপুর ঘাট থেকে টোল আদায় বন্ধের নির্দেশনা দেন। কিন্তু সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে এখনো সেখানে টোল আদায় চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে মাহতাবপুর ঘাটে টোল আদায়কারীরা দাবি করেন, তারা বালিজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বৈধভাবে ইজারা নিয়ে টোল আদায় করছেন।
জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার মো. এরশাদুল হক বলেন, “নীতিমালা অনুযায়ী ইজারাকৃত ঘাটের উজান ও ভাটির নির্ধারিত সীমার মধ্যে নতুন কোনো ঘাট সৃষ্টি করা যাবে না। আমি ফাজিলপুর ঘাটের সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছি। নির্দেশনা অমান্য করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে বালিজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন বলেন, “মাহতাবপুর ঘাটটি প্রায় ১০০ বছর ধরে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইজারা দেওয়া হয়ে আসছে। মাঝখানে দুই বছর জেলা পরিষদ ইজারা দিয়েছিল। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদই ঘাটটি ইজারা দিয়েছে।”
স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক অসীম চন্দ্র বণিক বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘাটের ইজারা ও সীমানা নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন অবস্থানের কারণে স্থানীয়ভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

