নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালকসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে রক্তাক্ত লাশগুলো উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে তার বিরুদ্ধে একটি কম্পিউটার টাইপকৃত অভিযোগপত্র (জিডির অনুলিপি) উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন খানম (৩২), বড় মেয়ে মীম খানম (১৫), মেজ মেয়ে উম্মে হাবিবা (৮), ছোট মেয়ে ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (২২)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাতে কোনো এক সময় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। শনিবার সকালে ঘরের ভেতর লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লাশগুলোর পাশে পাওয়া নথিতে ফোরকান মিয়া তার স্ত্রীর পরিবারসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন। এতে পারিবারিক বিরোধের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে তিন শিশুর পাশাপাশি শ্যালকের লাশ বিছানায় ও ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। নিহত শারমিনের হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। কারণ উদঘাটনে পুলিশ, পিবিআই, ডিবি ও সিআইডি একসঙ্গে কাজ করছে। দ্রুতই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
কাপাসিয়া থানার ওসি জানান, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহ ও আর্থিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং পলাতক ফোরকানকে ধরতে অভিযান চলছে।

