শরণখোলা(বাগেরহাট) প্রতিনিধি
সুন্দরবনের বনদস্যুদের কবল থেকে সাত দিন পর ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ১১ জেলে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। শুক্রবার (৯ মে) গভীর রাতে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন।
জানা যায়, গত ৩ মে দিবাগত রাতে পূর্ব সুন্দরবনের আলোরকোল এলাকায় বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী ১১ জন জেলেকে অপহরণ করে। অপহরণের তিন দিন পর বনদস্যু শরিফ বাহিনীর সঙ্গে জাহাঙ্গীর বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় জাহাঙ্গীর বাহিনীর কবল থেকে জেলেদের ছিনিয়ে নিয়ে যায় শরিফ বাহিনী এবং পরে তাদের বনের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে।
মুক্তি পাওয়া জেলে রুবেল হাওলাদার জানান, অপহরণের পর তাদের পায়ে শিকল পরিয়ে বনে আটকে রাখা হয় এবং শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে মুক্তিপণ আদায়ের পর শুক্রবার ভোরে নৌকায় করে তাদের ধানসাগর-আরুয়াবের নদীর মোহনায় এনে নামিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে তারা প্রায় তিন থেকে চার কিলোমিটার হেঁটে বাড়িতে পৌঁছান।
মুক্তি পাওয়া অন্য জেলেরা হলেন—রাকিব হাওলাদার (২৪), ছগির (৩২), লুৎফর হাওলাদার (৩০), বাদল হাওলাদার (৩৫), সজিব হাওলাদার (২৭), হাফিজুল (২২), আলমগীর ফরাজী (৫০), ইয়াসিন হাওলাদার (২৩), রুবেল (২৫) ও দেব চন্দ্র (২৫)।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে মহাজন জানান, প্রথমে দস্যুরা জনপ্রতি ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে দর কষাকষির মাধ্যমে জনপ্রতি ৭০ হাজার টাকা করে মোট প্রায় ৭ লাখ টাকা বিকাশে পরিশোধের পর জেলেরা মুক্তি পান।
তিনি আরও জানান, সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে বারবার এমন ঘটনার শিকার হওয়ার ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পান না।
এ বিষয়ে শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সামিনুল হক বলেন, “মুক্তিপণ দিয়ে ১১ জেলে ফিরে আসার বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ এখনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় সুন্দরবনে জেলে নিরাপত্তা নিয়ে আবারও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

