গিয়াস উদ্দিন মিয়া, গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে, বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার কোরবানির পশুর হাট গুলো জমে উঠেছে। অন্যান্য বছরের মতো এ বছরেও দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ, ক্ষতিকর ইনজেকশন ও ট্যাবলেট ব্যবহার না করে ঘাস-খড়ের পাশাপাশি খৈল, ছোলা ও ভূষি খাইয়ে গরু মোটাতাজা করে খামারিরা হাটে আনছেন।
ঈদে দেশীয় গরুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় খামারের পাশাপাশি গরু মোটাতাজা করেছেন উপজেলার অনেক কৃষক। ভারতসহ অন্যান্যদেশ থেকে গরু আমদানি না করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন খামারি ও কৃষকরা। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য মতে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে গৌরনদী পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নে ৩ হাজার ১০০টি ও আগৈলঝাড়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৬২০টি ছোট বড় খামার রয়েছে।
এ সব খামারে ২৬ হাজার ২৬৪ টি গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্মা মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। বাশাইল রাইয়ান ডেইলি ফার্মের মালিক মোঃ শামীম সিকদার বলেন, ‘প্রতি বছর ভারতসহ অন্যান্য দেশ থেকে গরু বাজারে আসায় আমরা খামারিরা ক্ষতির শিকার হচ্ছি। অন্যান্য বছর থেকে এ বছর গো-খাদ্যের দাম অতিরিক্ত হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছি। সরকার যদি দেশের বাইরে থেকে গরু আমদানি না তাহলে ঘুরে দাড়াতে পারবো।
অপর খামারি রাজিহার গ্রামের জসিম উদ্দিন জানান, বিদেশ থেকে ফিরে গত ৮ বছর যাবত গরুর ফার্ম করে গরু মোটাজাত করে বিক্রি করি। প্রতি বছরই লোকসানের শিকার হই।
উত্তর মাদ্রা গ্রামের জামাল সরদার নামে এক খামারি বলেন, ‘কয়েক বছর আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে এ পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি’।
গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ পলাশ সরকার বলেন, এ দুই উপজেলার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ২৬ হাজার ২৬৪টি। চাহিদার বিপরীতে উদ্বৃত পশু রয়েছে ৯ হাজার ৩৯১টি।

