আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের কুমুরতিয়া গ্রামে গ্রাম্য বিরোধের জেরে এক প্রবাসীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৩ জুন) সকাল ৯টার দিকে কুমুরতিয়া গ্রামের প্রবাসী নুর আলম শেখের বাড়িতে কামাল শেখের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা বাড়ির সদস্যদের মারধর করে, স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়, নগদ অর্থ লুট করে এবং ঘরবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
লিখিত অভিযোগে শাহা আলম জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিবাদীদের সঙ্গে তাদের পারিবারিক ও গ্রাম্য বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় হামলাকারীরা তার বাড়িতে প্রবেশ করে গালিগালাজ করতে থাকে এবং তার ছেলে শান্ত শেখকে খুঁজতে থাকে। এ সময় বাড়িতে থাকা রোজিনা বেগম প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা রোজিনা বেগমের গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন এবং কানে থাকা স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া ঘরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালিয়ে একটি টিনের বাক্সে রাখা প্রায় দুই লাখ টাকা নিয়ে যায়। এ সময় ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে ভুক্তভোগী পরিবার আলফাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
এ ঘটনায় হামলার সময় ধারণ করা একটি আংশিক ভিডিও ফুটেজও পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে, যা এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত কামাল শেখ বলেন, “আমরা কয়েকজন সেখানে গিয়েছিলাম, কিন্তু বাড়িঘর ভাঙচুর বা লুটপাটের কোনো ঘটনা ঘটেনি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, তবে লুটপাটের অভিযোগ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

