ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এক কলেজছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় সাবেক জনপ্রতিনিধি বেবী নাজনীন। সোমবার (৮ জুন) দুপুরে উপজেলার কবিরপুরে অবস্থিত শৈলকুপা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার জেমি সাংবাদিকদের জানান, তিনি শৈলকুপা সিটি কলেজের বিএ (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার অভিযোগ, কলেজে যাতায়াতের পথে একই এলাকার নাগিরাট গ্রামের বাসিন্দা হাফিজ মুন্সি (২৩) দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্ত্যক্ত ও অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তার বাবা আব্দুল কুদ্দুস মিয়া গত ২৩ মে অভিযুক্তের বাবা আমিরুল মুন্সির কাছে অভিযোগ করেন। তবে অভিযোগের প্রতিকার না হয়ে উল্টো তাকে অপমান করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ৩০ মে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমিরুল মুন্সি, তার ছেলে হাফিজ মুন্সিসহ কয়েকজন তাদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান। একপর্যায়ে জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া, ঘটনার পর শিক্ষার্থীর বাবার বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণচেষ্টার পাল্টা অভিযোগ এনে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনা-সংশ্লিষ্ট একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ওই শিক্ষার্থী। এ সময় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বক্তারা বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

