খুলনা প্রতিনিধি
সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছিল ভূমিহীন ও গৃহহীন শতাধিক পরিবার। কিন্তু খুলনার ডুমুরিয়ায় চলমান ভদ্রা নদী পুনঃখনন কার্যক্রমের কারণে সেই আশ্রয় এখন হুমকির মুখে পড়েছে। উপজেলার চুকনগর, কাঠালতলা ও খর্নিয়া এলাকার তিনটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা নতুন করে গৃহহীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভদ্রা নদী খননের সময় উত্তোলিত মাটি আশ্রয়ণ প্রকল্পসংলগ্ন এলাকায় স্তূপ করে রাখায় অনেক ঘরের দেয়াল ও মেঝেতে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও জানালা ভেঙে কাদা ঢুকে পড়েছে, আবার নদীতীর ঘেঁষে খনন করায় কয়েকটি ঘর ধসে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পের একাধিক ঘরের পেছনে বিশাল মাটির স্তূপ জমে রয়েছে। মাটির অতিরিক্ত চাপে ঘরের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবারের রান্নাঘর ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি টিউবওয়েল অচল হয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।
খর্নিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, “নদীর পাড় কাটতে গিয়ে ঘরের একেবারে কাছ পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি বা জোয়ারের পানিতেই ঘর নদীতে ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাথরুম ভেঙে গেছে, পানির উৎস নষ্ট হয়েছে। পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় আছি।”
একই প্রকল্পের বাসিন্দা রওশন আরা বেগম বলেন, “অনেক কষ্টের পর একটি ঘর পেয়েছিলাম। এখন সেই ঘরও হারানোর ভয় নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। আমরা শুধু নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা চাই।”
জানা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর আওতায় ২০২১ ও ২০২২ সালে ডুমুরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করা হয়। সরকারি খাসজমিতে নির্মিত এসব ঘর ছিল তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। তবে চলমান নদী পুনঃখনন কার্যক্রমের কারণে সেই অর্জন এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে যশোর ও খুলনা অঞ্চলের পাঁচটি নদীর ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ চলছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা দূর করা।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও বসবাসের বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল পাওয়ার আগেই তারা নতুন সংকটে পড়েছেন।
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার বলেন, “কাঠালতলা ও খর্নিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে নদী খননের মাটি জমে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সমস্যা সমাধানে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া এসব পরিবার এখন উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে শতাধিক পরিবার আবারও গৃহহীন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

