রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
খুলনায় একটি হেফজ মাদ্রাসায় শিক্ষকের মারধরের ঘটনায় ৯ বছর বয়সী এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। মাথায় আঘাতের কারণে তার মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরও শিশুটির পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
আহত শিশুর নাম ইসমাইল শিকদার। সে খুলনা সরকারি কলেজ (প্রাক্তন জয় বাংলা কলেজ) সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ওমর ফারুক শিকদারের ছেলে। পরিবারের একমাত্র সন্তান ইসমাইলকে গত বছর কোরআনে হেফজ করানোর উদ্দেশ্যে সোনাডাঙ্গা থানার ডাক্তারপাড়া এলাকার নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমিতে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, গত ১৭ জুন রাতে মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক হাফেজ আবদুর রহমান পড়া না পারার অভিযোগে ইসমাইলকে বেত দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। কিন্তু ঘটনার পর বিষয়টি পরিবারকে জানানো হয়নি। পরদিন অন্য একটি সূত্রে খবর পেয়ে শিশুটির বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে ছেলেকে আহত অবস্থায় দেখতে পান।
ওমর ফারুক শিকদার বলেন, মাদ্রাসায় গিয়ে তিনি ছেলের অবস্থা দেখে হতবাক হয়ে পড়েন। ইসমাইলের দুই চোখের নিচে রক্ত জমাট বেঁধে ফুলে যায়। মাথা, মুখমণ্ডল ও গলার নিচেও আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষায় মাথায় গুরুতর আঘাত ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের বিষয়টি ধরা পড়ে।
চিকিৎসকদের বরাতে তিনি আরও জানান, আঘাতের কারণে শিশুটির মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওষুধে অবস্থার উন্নতি না হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
রোববার (২১ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডাক্তারপাড়া এলাকার একটি ভাড়া করা ভবনের দ্বিতীয় তলায় মাদ্রাসাটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রায় দুই বছর আগে ব্যক্তি উদ্যোগে হাফেজ আবদুর রহমান প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। কোনো ধরনের নিবন্ধন ছাড়াই এখানে হেফজ, নাজেরা ও শুনানি বিভাগে পাঠদান করা হয়। বর্তমানে সেখানে প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।
ঘটনার সময় মাদ্রাসায় উপস্থিত না থাকলেও খণ্ডকালীন শিক্ষক হাফেজ মাসুদ জানান, পড়া না পারার কারণে শিশুটিকে শাসন করা হয় এবং একপর্যায়ে তার মাথা দেয়ালে আঘাত লাগে। পরদিন শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে মাদ্রাসার পরিচালক আবদুর রহমান এলাকা ত্যাগ করেন এবং বর্তমানে তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।
এদিকে আহত শিশুটি বর্তমানে বাড়িতে বিশ্রামে রয়েছে। পরিবারের দাবি, ঘুমের মধ্যেও সে বারবার কেঁপে উঠছে এবং শারীরিকভাবে চরমভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
শিশুটির বাবা বলেন, তিনি নিজেও মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন এবং ছেলেকে হাফেজ বানানোর স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এমন নির্যাতনের ঘটনা তিনি কখনো ভাবেননি। ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা গোপন রাখাকে তিনি সবচেয়ে বেশি কষ্টদায়ক বলে উল্লেখ করেন।
সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

