আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
শিশু শ্রম, বাল্যবিবাহ, অপুষ্টি, ক্ষুধা, বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া প্রতিরোধ এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বরগুনার আমতলীতে গ্রাম পুলিশদের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ১১টায় আমতলী থানার হলরুমে আমতলী এডিপি, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এবং এনএসএস-এর যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আমতলী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন। সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, আমতলী এডিপির এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিভুদান বিশ্বাস। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এনএসএস-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মৃদুল সরকার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আমতলী থানার সাব-ইন্সপেক্টর নাসরিন সুলতানা, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের চাইল্ড প্রোটেকশন ও এপি স্পন্সরশিপ অফিসার চার্চিল দাস এবং সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক, আমতলী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক আবু জিহাদ।
বক্তারা বলেন, শিশু শ্রম, বাল্যবিবাহ, অপুষ্টি ও ক্ষুধা শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম অন্তরায়। এসব সামাজিক সমস্যা শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে এবং তাদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত করে। একটি শিশুর বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ।
তারা আরও বলেন, গ্রাম পুলিশরা তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকায় শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করা, বাল্যবিবাহ ও শিশু শ্রম প্রতিরোধ, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, “শিশুদের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব। শিশু শ্রম ও বাল্যবিবাহ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের ঘটনার তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে বিভুদান বিশ্বাস বলেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগে শিশুদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
সভায় গ্রাম পুলিশদের শিশু সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, অপুষ্টি মোকাবিলা, ক্ষুধামুক্ত সমাজ গঠন এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার বিভিন্ন কৌশল নিয়েও আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিশু অধিকার, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশু শ্রম নিরসন, শিক্ষা অব্যাহত রাখা, স্বাস্থ্যবিধি, পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা এবং প্রচলিত আইন-বিধি সম্পর্কে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

