মো.শফিউল ইসলাম,ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
টানা বর্ষণ ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আমন ধানের বীজতলা পচে নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি অনেক কৃষিজমি এখনও পানির নিচে থাকায় আমন চাষ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের খাল ও চ্যানেলগুলো বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে দীর্ঘদিন জমে থাকা পানিতে বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে এবং ধানের জমিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলার ভিটাবাড়িয়া, গৌরীপুর, ধাওয়া, ইকড়িসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বহু কৃষক একই ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন। গৌরীপুর ইউনিয়নের কৃষক লাবলু, ধাওয়া ইউনিয়নের পশরীবুনিয়া গ্রামের আব্দুল হালিম হাওলাদার এবং ইকড়ি ইউনিয়নের আতরখালী গ্রামের মনির হোসেন আকন, আব্দুল খালেক মুন্সি ও শিংহখালী গ্রামের মো. মোজাম্মেল খান জানান, ধারদেনা করে বীজতলা তৈরি করেছিলেন তারা। কিন্তু অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সব নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন নতুন করে বীজতলা তৈরি ও চারা সংগ্রহের জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে।
তারা বলেন, সরকারি সহায়তা না পেলে চলতি মৌসুমে আমন চাষ করা কঠিন হয়ে পড়বে। দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত জলাবদ্ধতার কারণে কোথাও কোথাও আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষি অফিসে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন করে বীজতলা তৈরি, উপযুক্ত বীজ সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দিতে কৃষি বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

