Nabadhara
ঢাকাবুধবার , ২৯ জুলাই ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১০ বছর ধরে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে চারাগাছ তুলে দিচ্ছেন শ্রেষ্ঠ শিক্ষক আর্জিনা খাতুন

মো.ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি
জুলাই ২৯, ২০২৬ ২:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মো.ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি

শিক্ষক শুধু জ্ঞানদানকারী নন, একজন আদর্শ মানুষ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নির্মাতা। সেই দৃষ্টান্তই স্থাপন করেছেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার গরীব পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছাঃ আর্জিনা খাতুন। গত এক দশক ধরে বিদ্যালয়ের বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে তাদের পছন্দের ফলদ গাছের চারা তুলে দিয়ে তিনি পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।

২০২৪ সালে নবাবগঞ্জ উপজেলার শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত আর্জিনা খাতুন ২০০৬ সালে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি গরীব পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন। ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর পঞ্চম শ্রেণির বিদায়ী শিক্ষার্থীদের একটি করে ফলদ গাছের চারা উপহার দেওয়ার উদ্যোগ নেন, যা আজ ১০ বছরে পদার্পণ করেছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মাঝেও নিয়মিত চারাগাছ বিতরণ করেন তিনি।

২০১৬ সালের বিদায়ী শিক্ষার্থী ফয়সাল আরাফাত জানান, ম্যাডামের দেওয়া আমড়া গাছের চারা এখন বড় হয়ে ফল দিচ্ছে। সেই ফল খেতে গেলেই স্কুলজীবন ও প্রিয় শিক্ষকের কথা মনে পড়ে।

এ বছরের বিদায়ী শিক্ষার্থী আফসানা মিমি বলেন, “ম্যাডামের দেওয়া চারাটি বাড়িতে লাগিয়েছি। বড় হয়ে আমিও মানুষের জন্য এমন কাজ করতে চাই।”

আফসানার মা ফেরদৌসী বেগম বলেন, আর্জিনা খাতুন শুধু একজন দক্ষ শিক্ষক নন, একজন মানবিক মানুষও। তাঁর এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকলিমা খাতুন বলেন, আর্জিনা খাতুনের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করছে, বিদ্যালয়ের প্রতি ভালোবাসা বাড়াচ্ছে এবং বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করছে। এটি অন্য শিক্ষকদের জন্যও অনুকরণীয়।

আর্জিনা খাতুন বলেন, “একটি সুন্দর পরিবেশ ছাড়া সুন্দর ভবিষ্যৎ সম্ভব নয়। তাই শিক্ষার্থীদের হাতে চারাগাছ তুলে দিয়ে তাদের মধ্যে পরিবেশপ্রেম জাগিয়ে তুলতে চাই। সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই।”

নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এ.কে.এম. আঃ ছালাম বলেন, আর্জিনা খাতুনের পরিবেশবান্ধব ও মানবিক উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এটি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অন্যান্য শিক্ষকদেরও অনুপ্রাণিত করবে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে একজন শিক্ষকের হাতে একটি চারাগাছ শুধু একটি উপহার নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী গড়ার একটি নীরব অঙ্গীকার। আর্জিনা খাতুনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেশের শিক্ষা অঙ্গনের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।