Nabadhara
ঢাকামঙ্গলবার , ৪ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আলফাডাঙ্গায় পুনঃখননে প্রাণ ফিরে পেল খাল, স্বস্তিতে হাজারো কৃষক

আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
আগস্ট ৪, ২০২৬ ৬:০৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

দীর্ঘদিনের দখল, অবহেলা ও পলি জমে মৃতপ্রায় হয়ে পড়া ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের একটি খাল পুনঃখননের মাধ্যমে আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে। খালটিতে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ায় পাট জাগ দেওয়া, সেচ সুবিধা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বস্তি ফিরেছে হাজারো কৃষকের মাঝে।

 

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ দক্ষিণপাড়া স্লুইসগেট থেকে মিলন মোল্লার বাড়ি পর্যন্ত ৫৭০ মিটার পুনঃখনন করা খালটি এখন পানিতে পরিপূর্ণ। বারাশিয়া নদী থেকে সহজেই পানি প্রবেশ করায় কৃষকরা খালে পাট জাগ দিচ্ছেন এবং সেচের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। খালের দুই পাড়ে রোপণ করা বনজ ও ফলজ গাছ এলাকায় নতুন সৌন্দর্য যোগ করেছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এবং উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ৫৭০ মিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয় ২৫ লাখ ৭৯ হাজার ১৪৮ টাকা। কাজ শেষে শ্রমিকদের অনুপস্থিতিজনিত কারণে সাশ্রয় হওয়া ৩৭ হাজার ৩৭০ টাকা সরকারি বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

বড়ভাগ গ্রামের কৃষক ইমদাদুল শেখ বলেন, আগে পানির অভাবে অনেক দূরে গিয়ে পাট পচাতে হতো। এখন বাড়ির পাশের খালেই সহজে পাট জাগ দেওয়া যাচ্ছে, এতে সময়, শ্রম ও খরচ—সবই কমেছে।

মালা গ্রামের কৃষক কামরুল শেখ বলেন, আগে অন্যের পুকুর ভাড়া নিয়ে পাট জাগ দিতে হতো। এবার খালের পর্যাপ্ত পানির কারণে সহজেই পাট পচাতে পারছেন এবং ভালো মানের পাট উৎপাদনের আশা করছেন।

টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে কৃষকরা সেচ সুবিধা পাচ্ছেন, জলাবদ্ধতা কমছে এবং মাছ চাষেরও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদনের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও উপকৃত হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সাগর হোসেন সৈকত বলেন, ডিজিটাল সার্ভে ও সুনির্দিষ্ট নকশার ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কাজের প্রতিটি ধাপে তদারকি নিশ্চিত করা হয়েছে। পুনঃখননের ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, সরকারি নির্দেশনা ও নীতিমালা অনুসরণ করে খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে। এর ফলে খালের নাব্যতা ও পানি ধারণক্ষমতা ফিরে এসেছে। কৃষকরা ইতোমধ্যেই খালের পানি ব্যবহার করে পাট জাগ দিচ্ছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয়দের মতে, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে শুধু একটি জলাধারের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হয়নি, বরং কৃষকদের সেচ, পাট জাগ, মাছ চাষ ও কৃষি উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনার দ্বারও উন্মোচিত হয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।