গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর জরিপকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল, ঝাড়ু মিছিল এবং পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিক্ষোভকারীরা সদ্য বদলি হওয়া ইউএনও সাথী দাস ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে প্রতীকী ঝাড়ু প্রদর্শন করেন।
বিক্ষোভ শেষে নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
এদিকে, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জরিপকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লাসহ চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার সাবেক নেতাদের স্বাক্ষরিত কয়েকটি সুপারিশের তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ তালিকা অনুযায়ী নিয়োগ না হওয়ায় বিক্ষোভ হয়েছে বলে পাল্টা অভিযোগও ওঠে।
এ বিষয়ে সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা বলেন, “তালিকাগুলো ইউএনও বরাবর ফরোয়ার্ড করা হয়নি। ওটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আন্দোলনের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই, আমি এলাকায় ছিলাম না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “সাবেক ইউএনও সাথী দাস বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম করেছেন।” তবে এ অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রামাণ্য তথ্য উপস্থাপন করেননি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তথ্য সংগ্রহের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে ৪৭ জন জরিপকারী ও ৪ জন সুপারভাইজার নিয়োগে ২১ জুলাই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ২৮ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৮০০ আবেদন জমা পড়ে। ওই দিনই মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে ২৮ জুলাই তারিখে স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত ফলাফল ৩ আগস্ট উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নোটিশ বোর্ডে টানানো হয়। ফল প্রকাশের পর বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
বিক্ষোভে বক্তারা অভিযোগ করেন, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরও কয়েকদিন ফল প্রকাশ না করে পরে প্রকাশ করা হয়েছে, যা সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। তারা নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানান। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন।
আন্দোলনকারী মো. সুমন অভিযোগ করেন, “ভাইভা পরীক্ষায় অধিকাংশ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিলেও আমি উত্তীর্ণ হইনি, এমনকি অপেক্ষমাণ তালিকাতেও নাম আসেনি। অথচ অন্যদের কম প্রশ্ন করেও উত্তীর্ণ করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে সদ্য বদলি হওয়া ইউএনও সাথী দাস বলেন, “তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে সরকারি নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। রাজনৈতিক সুপারিশ থাকলেও তা গ্রহণ করার সুযোগ ছিল না। নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়নি। কেউ অনিয়মের অভিযোগ করলে তা তদন্ত করে দেখার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ রয়েছেন।”

