নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিতে জেন্ডার সংবেদনশীলতার ভূমিকা শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) সকালে নারীপক্ষ সংস্থার উদ্যোগে গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজার এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় নারীপক্ষের স্থানীয় সম্পৃক্ততায় পরিচালিত নারী কর্মপ্রসার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রওশন আরা, সংস্থাটির কর্মকর্তা আফসানা সেহেরী, গাজীপুর যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মমিনুল হক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ফিল্ড সুপারভাইজার উম্মে কুলসুমসহ নারী উদ্যোক্তা পারভীন আক্তার, নুরজাহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, নারীর অধিকার, অর্থনৈতিক কর্মসংস্থান, সম্পত্তির মালিকানা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা জরুরি। নারীর বাস্তব অভিজ্ঞতা, অর্জন ও সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে গণমাধ্যম নারীর প্রতি প্রচলিত বৈষম্য ও নেতিবাচক ধারণা পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আলোচনায় বলা হয়, নারীর অর্থনৈতিক অধিকার একটি মৌলিক অধিকার। নারী স্বাধীনভাবে কাজ করা, আয় করা, সম্পদ নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ পেলেও পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামো, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা, বৈষম্য ও সামাজিক বাধার কারণে এই অধিকার এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
বক্তারা আরও বলেন, অর্থনীতিতে নারীর অবদান এখনো যথাযথভাবে স্বীকৃত ও মূল্যায়িত হচ্ছে না। নারীরা মোট অবৈতনিক কাজের প্রায় ৮৮ শতাংশ সম্পাদন করেন, যার অর্থমূল্য দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১৪ থেকে ১৭ শতাংশের সমপরিমাণ বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। অথচ এই অবদান প্রচলিত অর্থনৈতিক পরিমাপে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত হয় না।
সভায় জানানো হয়, নারীরা ঘর ও বাইরে উৎপাদন ও উপার্জনমূলক বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকলেও বেতনভিত্তিক কর্মসংস্থানে তাদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম। বর্তমানে নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ প্রায় ৩৬ শতাংশ। তাদের বড় একটি অংশ অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত, যেখানে কম মজুরি, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক সুরক্ষার অভাব রয়েছে।
এ ছাড়া কর্মক্ষেত্রে নারীরা পদোন্নতি, মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হন বলেও সভায় উল্লেখ করা হয়। বিপুলসংখ্যক নারী ঝুঁকিপূর্ণ কর্মসংস্থানে নিয়োজিত থাকায় তাদের আয় ও জীবিকার স্থিতিশীলতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সভায় নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ, সমমজুরি, সম্পত্তির অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে নারী অধিকার ও অর্থনৈতিক অবদানের বিষয়ে গণমাধ্যমকে আরও জেন্ডার সংবেদনশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

