Nabadhara
ঢাকারবিবার , ১৬ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সেলাই করে পড়াশোনা চালিয়ে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেল সুমাইয়া

Link Copied!

রিপন হোসেন সাজু, মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি 

সংসারে অভাব, ঠিকমতো খাবার জোটে না সবসময়। মাথার ওপর পাকা ছাদও নেই। বাবা দিনমজুর, মায়ের সামান্য আয় দিয়ে চলে সংসার। এমন প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে সেলাইয়ের কাজ করে পড়াশোনা চালিয়ে গেছে সুমাইয়া খাতুন। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের ফল হিসেবে এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে সে।

সুমাইয়া যশোরের মনিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের আবু দাউদ মোল্লা ও নাছিমা খাতুনের ছোট মেয়ে। সে মনিরামপুর কারিগরি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

সুমাইয়ার বাবা আবু দাউদ মোল্লা দিনমজুরের কাজ করেন। মা নাছিমা খাতুন গৃহিণী হলেও সংসারের পাশাপাশি সেলাইয়ের কাজ করেন। দুই মেয়ের সংসারে আর্থিক টানাপোড়েন নিত্যদিনের সঙ্গী। অভাবের কারণে মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয় পরিবারটিকে। তাই নিজের পড়াশোনার খরচের একটি বড় অংশ নিজেই জোগাড় করেছে সুমাইয়া।

বাড়ির পাশের একটি সেলাই সেন্টারে মায়ের সঙ্গে কাপড় সেলাইয়ের কাজ করে সে। কাজের ফাঁকে নিয়মিত পড়াশোনাও চালিয়ে গেছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের ঘরটি উপরিভাগে টালি ও চারদিকে টিন দিয়ে ঘেরা। নানা সংকটের মধ্যেও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহে কখনো ভাটা পড়েনি সুমাইয়ার।

সুমাইয়ার স্বপ্ন, ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া। তবে জিপিএ-৫ পাওয়ার আনন্দের পাশাপাশি মেয়ের উচ্চশিক্ষা নিয়ে নতুন দুশ্চিন্তায় পড়েছে পরিবারটি। সীমিত আয়ের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বাবা-মা।

সুমাইয়ার মা নাছিমা খাতুন বলেন, ‘মেয়েকে ঠিকমতো খাতা-কলমও দিতে পারিনি। নিজের পড়াশোনার খরচ সেলাইয়ের কাজ করে নিজেই চালিয়ে আসছে।’

বাবা আবু দাউদ মোল্লা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই সুমাইয়া পড়াশোনায় ভালো। প্রায় সব ক্লাসেই প্রথম হয়েছে সে। মেয়েকে ভালো কাপড় পরিয়ে দিতে পারিনি, ভালোভাবে পড়াশোনা করানোর খরচও জোগাতে পারিনি—এটাই আমার কষ্ট। মেয়ের ফলাফলে আমি খুব আনন্দিত।’

প্রতিবেশী আইয়ূব আলী বলেন, ‘দারিদ্র্য বা অভাব মানুষের মনোবল দমাতে পারে না। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে প্রতিকূলতার মধ্যেও ভালো ফল করা সম্ভব। দারিদ্র্যকে জয় করে সেটিই দেখিয়েছে সুমাইয়া।’

মনিরামপুর কারিগরি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের সুপার আব্দুল্লাহ ফারুক আল মাহমুদ বলেন, ‘সুমাইয়া আমাদের প্রতিষ্ঠানের মুখ উজ্জ্বল করেছে। তাকে আর্থিক সহযোগিতা ও সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া গেলে সে ভবিষ্যতে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে।’

সুমাইয়ার জিপিএ-৫ পাওয়ায় পরিবার, শিক্ষক ও প্রতিবেশীদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। তবে সাফল্যের এই ধাপ পেরিয়ে সামনে এখন তার জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ—উচ্চশিক্ষার ব্যয় জোগাড় করা। স্থানীয়রা মেধাবী এই শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও শিক্ষানুরাগীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।