শরীয়তপুর প্রতিনিধি
ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে কাতারে পাঠানো এবং সেখানে নির্যাতনের শিকার করার অভিযোগে দায়ের করা মানব পাচার মামলায় আবু সাহেব ঢালী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের চর পাতাং গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাদারীপুর সদর মডেল থানা পুলিশ ও আংগারিয়া পুলিশ ফাঁড়ির যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আবু সাহেব ঢালী চর পাতাং গ্রামের মৃত আনিছ উদ্দিন ঢালীর ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর পৌরসভার নতুন মাদারীপুর গ্রামের বাসিন্দা সানোয়ার হাওলাদারের ছেলে মো. সেতাফ হাওলাদারকে সরাসরি ইতালিতে পাঠিয়ে ভালো বেতনের চাকরি দেওয়ার কথা বলেন আবু সাহেব ঢালী। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ ইতালিতে পাঠানোর বিষয়ে কথাবার্তা চূড়ান্ত হয়। একই দিনে সেতাফের পাসপোর্ট ও নগদ এক লাখ টাকা নেন তিনি।
পরে ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর সেতাফকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। তবে ইতালিতে পাঠানোর পরিবর্তে তাকে কাতারে পাঠানো হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, কাতারে অবস্থানকালে সেতাফকে মাফিয়াদের মাধ্যমে মারধর করা হয় এবং তার পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেওয়া হয়। একপর্যায়ে কাতার পুলিশের হাতে আটক হন সেতাফ। পরে ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
মামলার বাদী সানোয়ার হাওলাদারের অভিযোগ, আবু সাহেব ঢালী তাদের পূর্বপরিচিত ছিলেন। তার ছেলে সেতাফকে ইতালিতে নিয়ে ভালো বেতনের চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ইতালিতে না পাঠিয়ে সেতাফকে কাতারে পাঠানো হয়।
সানোয়ার হাওলাদার বলেন, ‘ছেলেকে ইতালিতে পাঠানোর আশায় আমি টাকা দিয়েছিলাম। এখন আমি নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। সরকারের কাছে আমার আকুল আবেদন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আমি যেন সঠিক বিচার পাই।’
বাদীর দাবি, কাতারে যাওয়ার পর মাফিয়াদের মাধ্যমে তার ছেলেকে মারধর করা হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের বিজ্ঞ মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে সানোয়ার হাওলাদার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ওই মামলায় আবু সাহেব ঢালীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

