নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই কৃষির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনা নিয়ে গাজীপুরে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) গাজীপুরস্থ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) মিলনায়তনে ‘দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিতে নাইট্রোজেন পরিস্থিতি: ক্ষয়, ব্যবহার দক্ষতা এবং নাইট্রোজেন অপচয় অর্ধেকে নামিয়ে আনার সম্ভাবনা’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ মৃত্তিকা বিজ্ঞান সমিতির সভাপতি ড. মো. মনোয়ার করিম খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি. কে. এম. মোস্তাফিজুর রহমান, ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম, দেশের প্রখ্যাত মৃত্তিকা বিজ্ঞানী ড. মো. শহিদুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. এম. জহিরউদ্দীন এবং ব্রির পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারণ পরিচর্যা) ড. আমিনুল ইসলাম।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান।
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিতে নাইট্রোজেনের ব্যবহার ও ক্ষয়ের বর্তমান চিত্র, নাইট্রোজেন ব্যবহারের নিম্ন দক্ষতা এবং নাইট্রোজেন সারের সুষম ব্যবহার না করার ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ক্ষতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তিনি কৃষিতে নাইট্রোজেন সারের কার্যকর ব্যবহারের জন্য ধীর-মুক্তি বা স্লো-রিলিজ সার, যেমন ইউরিয়া সুপার গ্র্যানুল এবং নিম-কোটেড ইউরিয়া ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বায়োচার ও ভার্মিকম্পোস্টের মতো জৈব উপাদান, অল্টারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং (AWD) পদ্ধতি এবং ন্যানো ইউরিয়ার ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, নাইট্রোজেন সারের অপচয় ও ক্ষয় কমানো গেলে একদিকে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে, অন্যদিকে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাবও হ্রাস পাবে। কৃষিতে নাইট্রোজেন ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে টেকসই উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
সেমিনারে ব্রির বিভিন্ন গবেষণা বিভাগ ও আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান, বিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং বাংলাদেশ মৃত্তিকা বিজ্ঞান সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা নাইট্রোজেনের অপচয় ও ক্ষয় হ্রাস, ব্যবহার দক্ষতা বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও গবেষণা কার্যক্রম আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

