রিপন হোসেন সাজু, মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দমিয়ে রাখতে পারেনি অদম্য মেধাবী অর্থী মন্ডলকে। নানা শারীরিক প্রতিকূলতা জয় করে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। জন্মের ছয় মাস বয়স থেকে টানা তিন বছর ফিজিওথেরাপি হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে তাকে। এখনো সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। পরীক্ষার হলে একটু বেশি লিখলেই হাত-পা কাঁপতে থাকে। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার লিখতে হয়। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও তার এই সাফল্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রতিবেশীরা বিস্মিত ও আনন্দিত।
অর্থী মন্ডল যশোরের মনিরামপুর পৌর এলাকার মহাদেবপুর গ্রামের শিক্ষক অরুণ ঘোষাল ও ইন্দ্রা মল্লিক দম্পতির মেয়ে। সে উপজেলার হোগলাডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চায় অর্থী।
অর্থীর বাবা অরুণ ঘোষাল জানান, জন্মের ছয় মাস পর থেকেই তারা বুঝতে পারেন, তাদের মেয়ে স্বাভাবিকভাবে মেরুদণ্ড সোজা করে বসতে কিংবা দাঁড়াতে পারছে না। চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানতে পারেন, মেরুদণ্ডজনিত জটিলতাসহ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তার।
মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে তখন দুশ্চিন্তায় অনেক রাত নির্ঘুম কাটিয়েছেন অর্থীর বাবা-মা। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর মেয়ের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও মেধার পরিচয় পেয়ে ধীরে ধীরে আশাবাদী হয়ে ওঠেন তারা।
অরুণ ঘোষাল বলেন, “অর্থীর বয়স যখন ছয় মাস, তখন তাকে দেশের স্বনামধন্য শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল মান্নানের কাছে নিয়ে যাই। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি তিন বছর ফিজিওথেরাপি দেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর অর্থীকে একটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতালে ভর্তি করে টানা তিন বছর চিকিৎসা করাই। এতে সে কিছুটা হাঁটাচলা করতে সক্ষম হয়। তবে এখনো স্বাভাবিকভাবে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।”
তিনি বলেন, শারীরিক কষ্টের কারণে পড়াশোনায়ও অর্থীকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। পরীক্ষার হলে দীর্ঘ সময় লিখলে হাত-পা কাঁপতে শুরু করে। তখন কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার লিখতে হয়। তারপরও পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ কখনো কমেনি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক হামিদা খাতুন বলেন, “অর্থী অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। তার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনোই মেধা ও পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। তার এই সাফল্যে আমরা গর্বিত। ভবিষ্যতে সে আরও ভালো করবে বলে আমরা আশাবাদী।”
শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে অর্থীর জিপিএ-৫ অর্জন শুধু তার পরিবার নয়, বিদ্যালয় ও এলাকার মানুষের কাছেও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

