আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বরগুনার তালতলী উপজেলার বগীরদোনা খালের ওপর লোহার সেতু ভেঙে পড়ায় চার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে আকস্মিকভাবে সেতুটি ভেঙে খালে পড়ে যায়। এতে তালুকদারপাড়া ও বড়াইতলী এলাকার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন তালুকদারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও তালুকদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় খাল পারাপার হতে হচ্ছে তাদের। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুলে যাতায়াত ও পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
তালতলী উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে তৎকালীন আমতলী উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে বড়বগী ইউনিয়নের তালুকদারপাড়া ও নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়াইতলী গ্রামের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য বগীরদোনা খালের ওপর ৬০ ফুট দীর্ঘ ও ৮ ফুট প্রশস্ত লোহার সেতুটি নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেতুটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল।
বুধবার গভীর রাতে সেতুটি ভেঙে খালে পড়ে যাওয়ার পর মৌরভী, পাওয়াপাড়া, তালুকদারপাড়া ও বড়াইতলীসহ চার গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের একাংশকে এখন নৌকায় খাল পার হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
তালুকদারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতি ও রেহেনা আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বারবার বিষয়টি জানানো হলেও সংস্কার করা হয়নি। এখন সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় খাল পার হতে হচ্ছে।
মৌরভীপাড়ার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ছোট শিশুদের একা স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। নৌকায় পারাপারের সময় যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত এখানে একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।
তালুকদারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের বলেন, সেতু ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা সময়মতো বিদ্যালয়ে আসতে পারছে না। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় খাল পার হতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কমে যাওয়ার পাশাপাশি তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা জরুরি।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতীশ সরকার বলেন, ভেঙে যাওয়া সেতুটি অপসারণ এবং নতুন সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে একটি অস্থায়ী কাঠের সেতু নির্মাণের জন্যও বলা হয়েছে।

