মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সম্রাট হোসেনের হস্তক্ষেপে অষ্টম শ্রেণির এক মেধাবী ছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়েছে। বিয়ের আয়োজনের অংশ হিসেবে ওই ছাত্রীর গায়েহলুদও শুরু হয়েছিল।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার খাটুয়াডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে ইউএনওর নির্দেশনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সহযোগিতায় বিয়ের আয়োজন বন্ধ করা হয়।
দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব কোমল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ইউএনওর নির্দেশনা পেয়ে তিনি খাটুয়াডাঙ্গা গ্রামে গিয়ে দেখতে পান, খাটুয়াডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর গায়েহলুদের আয়োজন চলছে। পরে ছাত্রীর অভিভাবক, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক ও আইনি বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
একপর্যায়ে ছাত্রীর বাবা-মা মেয়ের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে দেবেন না এবং তাকে শিক্ষিত করে তুলবেন—এ মর্মে লিখিত অঙ্গীকার করেন। পরে গায়েহলুদের আয়োজন বন্ধ করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হযরত আলী বলেন, ‘সকালে বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর পর ইউএনও স্যার মোবাইলে জানান, বিদ্যালয় সংলগ্ন গ্রামে এক ছাত্রীর বিয়ের আয়োজন চলছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সত্যতা পাই। পরে ইউপি সচিবকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রীর বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে গায়েহলুদের অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়।’
তিনি জানান, ওই ছাত্রী এবার অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে। সে বিদ্যালয়ের একজন মেধাবী ছাত্রী।
স্থানীয় মাওলানা আজিজুর রহমান, আবু সাইদ, রুস্তম আলী, রমজান আলী ও জিয়াউর রহমানসহ কয়েকজন বলেন, প্রশাসনের উদ্যোগে একজন মেধাবী ছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়েছে। তাঁরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন বলেন, ‘এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে মেধাবী ছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে উপজেলার পৌরসভা ও বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় একাধিকবার সচেতনতামূলক সেমিনার করা হয়েছে। তবে বাল্যবিবাহ শতভাগ নির্মূল করতে হলে সবাইকে আরও আন্তরিক ও সচেতন হতে হবে।’

