শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী
শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে বাগেরহাটের চিতলমারীতে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই উৎসবকে সামনে রেখে দরজায় কড়া নাড়ছে দুর্গোৎসব। আর উৎসবকে ঘিরে প্রতিমা তৈরিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।
কাদা-মাটি, খড়, বাঁশ ও কাঠের নিপুণ ছোঁয়ায় গড়ে উঠছে দেবী দুর্গা এবং তাঁর সন্তান কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর প্রতিমা। উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রতিমা কারিগরদের যেন দম ফেলার ফুরসত নেই। নিখুঁতভাবে দেবী প্রতিমা গড়ে তুলতে শিল্পীরা রাত জেগেও কাজ করছেন।
বেশিরভাগ মণ্ডপে প্রতিমার মাটির কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। মাটি শুকানোর পর শুরু হবে রঙের প্রলেপ, শাড়ি পরানো ও নান্দনিক রূপসজ্জার কাজ।
স্থানীয় সন্তোষপুর গ্রামের প্রতিমা শিল্পী কানাই মজুমদার ও কেষ্টনগর গ্রামের সাগর বিশ্বাস জানান, তাঁরা আলাদাভাবে ২১টি মণ্ডপে মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। এ বছর প্রতিমা তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম অনেক বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় শিল্পীরা ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে মজুরি না বাড়লেও কাজের প্রতি তাঁদের উৎসাহে কোনো কমতি নেই।
তাঁরা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ভক্তদের মন জয় করতে প্রতিমায় নতুনত্বের ছোঁয়া দিতে সর্বোচ্চ শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। অনেক শিল্পী বংশপরম্পরায় এই পেশার সঙ্গে যুক্ত থেকে মণ্ডপে মণ্ডপে উৎসবের রং ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
দুর্গোৎসবের এই আনন্দঘন পরিবেশকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই চিতলমারী উপজেলার মণ্ডপগুলোতে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। এবারও এর ব্যতিক্রম নয়। পূজাকে ঘিরে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নানা প্রস্তুতি।
চিতলমারী উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক জহর লাল সহকার জানান, এ বছর উপজেলায় ১৩৭টি শারদীয় দুর্গাপূজা ও ৯টি বাসন্তী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। মণ্ডপগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তাঁদের দারুণভাবে সহযোগিতা করছেন।

