Nabadhara
ঢাকাশনিবার , ১০ অক্টোবর ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দৌলতপুরে অ্যানথ্রাক্সের বিস্তার, তিন মাসে চিকিৎসা নিয়েছেন ৯৬ জন

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গবাদিপশু থেকে মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ বাড়ছে। গত দুই সপ্তাহে নতুন করে ৪২ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ নিয়ে গত তিন মাসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন ৯৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্করাও রয়েছেন। এর মধ্যেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অসুস্থ গবাদিপশু জবাই করে মাইকিংয়ের মাধ্যমে মাংস বিক্রির প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আগস্টে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩০ জন। সেপ্টেম্বরে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮ জনে। আর অক্টোবরের ১ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন আরও ১৮ জন। সব মিলিয়ে তিন মাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৬ জনে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তবে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়া অনেকে হাসপাতালে না আসায় প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাইকিং করে গরু জবাই ও মাংস বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। এসব পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু খামারি অসুস্থ গবাদিপশু কম দামে কসাইদের কাছে বিক্রি করছেন। পরে সেসব পশু জবাই করে মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কসাইদের নাম-পরিচয় দিতে রাজি নন অভিযোগকারীরা।

দৌলতপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, সংক্রমিত বিভিন্ন এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আক্রান্ত এলাকার গবাদিপশুকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা থেকেও চিকিৎসকেরা এসেছেন। তাঁরা সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি আক্রান্ত গবাদিপশুর চিকিৎসা দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, অসুস্থ গবাদিপশু জবাই করে গোপনে মাংস বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাইকিং করে আক্রান্ত পশুর মাংস বিক্রির বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খামারিরা অসুস্থ পশু কসাইদের কাছে বিক্রি করছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৪ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছিলেন। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ায় প্রতিদিনই দুই থেকে তিনজন করে রোগী হাসপাতালে আসছেন। ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন করে আরও ৪২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট ৯৬ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন ভর্তি ছিলেন, যাঁদের অনেকে সুস্থ হয়েছেন। গবাদিপশু থেকে মানুষের মধ্যে এ সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। ঢাকা থেকে আসা চিকিৎসকেরা বিভিন্ন এলাকায় আক্রান্তদের চিকিৎসা ও পরামর্শ দিচ্ছেন।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ বলেন, উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ বেড়েছে। ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। আক্রান্ত বা অসুস্থ গবাদিপশু জবাই করে বিক্রি করা হলে সেই মাংস না খাওয়ার জন্য সবাইকে সচেতন করা হচ্ছে। কোনো এলাকায় সন্দেহজনক গবাদিপশু জবাই করা হলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত পশু শনাক্তকরণ ও টিকাদানের পাশাপাশি অসুস্থ পশু জবাই এবং মাংস বিক্রি বন্ধে নজরদারি জোরদার করা জরুরি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।