মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুর সদর উপজেলার নওদাপাড়া গ্রামে বাড়ির বারান্দায় ঘুমিয়ে থাকা বাবা মোহাম্মদ হাবেল আলীকে (৬৬) ধারালো রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলে সাহাবুল হোসেনের (৩৩) বিরুদ্ধে। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করে।
নিহত হাবেল আলী পেশায় কৃষক। তাঁর তিন মেয়ে ও এক ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, একমাত্র ছেলে সাহাবুল কিছুটা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। প্রায় নয় মাস আগে হাবেল আলীর স্ত্রী মারা যান। তাঁর প্রায় ৯ বিঘা চাষের জমি রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে নিজের জমিতে কৃষিকাজ করতে যান হাবেল আলী। বেলা ১০টার দিকে কাজ শেষে বাড়িতে ফিরে খাবার খেয়ে বারান্দায় ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় সাহাবুল ধারালো ভারী অস্ত্র রামদা দিয়ে বাবাকে উপর্যুপরি কোপান। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
গ্রামের বাসিন্দা কামরুল ইসলাম জানান, এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে সাহাবুলকে তাঁর বাবার জমিজমা নিজের নামে লিখে নেওয়ার পরামর্শ দিতেন। তাঁরা সাহাবুলকে বলতেন, তাঁর বাবা বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজছেন। বিয়ে করলে নতুন স্ত্রীকে জমিজমা লিখে দিতে পারেন। তাই আগেভাগেই বাবার কাছ থেকে জমি নিজের নামে দলিল করে নেওয়া উচিত।
কামরুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কথার পর সাহাবুল কয়েকবার বাবার কাছে জমি লিখে দেওয়ার দাবি জানান। কিন্তু জমি লিখে না দেওয়ায় বাবা-ছেলের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়ে থাকতে পারে। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। তবে জমি নিয়ে বিরোধই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সাহাবুল হোসেনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জমিজমা নিয়ে বাবা-ছেলের বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে বলে জানান তিনি।

