মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে মুদি দোকানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষতিপূরণ ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেছেন মোল্লা আমান উল্লাহ নামে এক ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে প্রেসক্লাব মোল্লাহাটের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব দাবি জানান।
উপজেলার আস্তাইল গ্রামের মৃত দাউদ মোল্লার ছেলে আমান উল্লাহ লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, গত ২৭ জুন ভোররাতে দুর্বৃত্তরা তাঁর মুদি দোকানে আগুন দেয়। এতে দোকানের চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে যায়। দোকানটি ছিল তাঁর পরিবারের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম প্রধান অবলম্বন।
আমান উল্লাহ জানান, গত ২৬ জুন তাঁর স্ত্রী সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। জন্মের পর শিশুটির হৃদ্স্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে পরদিন সকালে দোকানে আগুন দেওয়ার খবর পান তিনি। নবজাতকের চিকিৎসার ব্যয় ও দোকান পুড়ে যাওয়ায় পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়ে বলে দাবি করেন তিনি।
অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মো. বিপ্লব মোল্লার সম্পৃক্ততার সন্দেহ প্রকাশ করেন আমান উল্লাহ। এ ছাড়া ডেজি বেগম নামে এক নারী তাঁর নাম উল্লেখ করে এক আত্মীয়ের মোবাইল ফোনে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, দোকানে আগুন দেওয়ার প্রায় এক মাস পর তাঁদের বাড়ির একটি ডিপ টিউবওয়েলের কল চুরি হয়। এ ঘটনায় শনাক্ত করা এক ব্যক্তির বরাত দিয়ে আমান উল্লাহ দাবি করেন, বিপ্লব মোল্লা দুই পিস ইয়াবা ও এক হাজার টাকা দিয়ে ওই কল চুরিতে প্ররোচিত করেছিলেন। পরে স্থানীয়ভাবে চান মিয়া মেম্বারের উপস্থিতিতে পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে কল চুরির বিষয়টি মীমাংসা করা হয় বলে জানান তিনি।
আমান উল্লাহর অভিযোগ, দোকানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখনো কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। তাই তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তদন্ত এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে আইনানুগভাবে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চান। ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা নয়, বরং প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং পরিবারের জীবিকা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁর উদ্দেশ্য।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও জানা যায়নি।

