আর. কে. বাপ্পা,দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে (৩৮) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিহতের বড় ভাই আব্দুল জলিল সানা (৫২) বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় মামলাটি করেন। এ ঘটনায় এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আসাদুল ইসলাম মোল্যা (৪৬) ও মোক্তার হোসেন খান (৫৩)। তাঁরা মামলার ৫ ও ৬ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি। দেবহাটা থানায় দায়ের করা মামলার নম্বর ৯। এতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৪৪৯, ৩২৩, ৩০২, ৩৪ ও ১১৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর পারিবারিক বিষয় নিয়ে শামীমের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময়ের কথোপকথন মোবাইলে রেকর্ড করে তাতে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী (সা.)-বিরোধী বক্তব্য রয়েছে বলে এলাকায় প্রচার করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী। পরে কয়েকজন ব্যক্তি শামীমের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর করেন এবং তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, অসুস্থ হয়ে পড়লে শামীমকে ওই দিন রাতে কুলিয়ার একটি চিকিৎসকের চেম্বারে নেওয়া হয়। পরদিন ১৩ অক্টোবর বিকেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পশ্চিম কুলিয়ায় ওই চেম্বারের সামনে গিয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় নিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
বাদীর অভিযোগ, ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল লোক হাসপাতাল ঘেরাও করে শামীমের চিকিৎসা বন্ধের দাবি জানায়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করে তাঁকে শয্যা থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে মারধর করেন এবং দেয়ালে আছাড় মারেন। এতে তাঁর মৃত্যু হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আসামিদের বক্তব্য জানা যায়নি।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় মামলা রেকর্ডের পর অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

