শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ বেড়ে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন শতাধিক রোগী। শয্যা না পেয়ে বারান্দা ও ওয়ার্ডের মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে প্রায় অর্ধশত রোগীকে। এতে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা, বাড়ছে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডের সব শয্যা রোগীতে পূর্ণ। জ্বর, ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চাপও বেড়েছে। শয্যা না পেয়ে অনেকে বারান্দা ও চলাচলের জায়গায় চাদর ও পাটি বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতালের পরিবেশ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পানি সরবরাহ নিয়েও ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
মেঝেতে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন বলেন, “তিন দিন ধরে সন্তানকে নিয়ে মেঝেতে শুয়ে আছি। অতিরিক্ত গরম ও শয্যার অভাবে বাচ্চার কষ্ট আরও বেড়েছে। কিন্তু বাইরে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই, তাই বাধ্য হয়ে এখানেই থাকতে হচ্ছে।”
রোগীর অতিরিক্ত চাপে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরাও। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ধারণক্ষমতার বেশি রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের প্রতিনিয়ত বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. স্মৃতি রায় জানান, চিতলমারীর একমাত্র সরকারি হাসপাতাল হওয়ায় দূরদূরান্তের গ্রাম থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে ৫০ শয্যার হাসপাতালের অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলানো অত্যন্ত কঠিন। এরপরও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকেরা দিনরাত পরিশ্রম করে রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, উপজেলার বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি দ্রুত ১০০ শয্যায় উন্নীত করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগের মাধ্যমে রোগীদের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

