নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল। মঙ্গলবার সকাল থেকে নাওজোর ও ভোগরা বাইপাস এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদেরও সড়কে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে নাওজোর এলাকায় শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর আগে সোমবারও একই এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। ওই দিন পুলিশের একাধিক গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী ও মৌচাক এলাকার বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকরা মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন। অন্যদিকে, কালিয়াকৈরের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ না থাকলেও সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৫০ থেকে ৬০টি পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, কিছু এলাকায় শ্রমিক আন্দোলন চলছে। মঙ্গলবার এখন পর্যন্ত ৫০টি কারখানা ছুটি দেওয়া হয়েছে। নাওজোর এলাকায় শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বেলায়েত হোসেন জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় পুলিশ ও সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশের গাড়ি, বিভিন্ন যানবাহন ও কারখানার গুদামেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
তবে টঙ্গী শিল্পাঞ্চলে আন্দোলনের তেমন প্রভাব পড়েনি। সেখানে কারখানাগুলো চালু রয়েছে।

