যশোর প্রতিনিধি
যশোর পৌরসভার অধিকাংশ রাস্তা দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খোয়া-পিচ উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরের সাধারণ মানুষ। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাগুলো কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়, পথচারী ও যানবাহন চালকদের জন্য সৃষ্টি হয় দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের বেজপাড়া তালতলা, আনসার ক্যাম্প, কবরস্থানপাড়া, চারখাম্বা থেকে কোল্ডস্টোর, আইটি পার্কের পূর্ব পাশ, পোস্ট অফিসপাড়া, ঘোপ ধানপট্টি বউবাজার, শংকরপুর বিদ্যুৎ অফিসের পূর্ব পাশ, আরএন রোড নতুন বাজার ও জেলা প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের সামনের রাস্তা—সব জায়গাতেই একই চিত্র।
বেজপাড়ার তালতলা এলাকার বাসিন্দা জিল্লুর রহমান ভিটু বলেন, “২৬ বছরেরও বেশি সময় এই এলাকার রাস্তা সংস্কার হয়নি। কয়েকবার মেয়রের কাছে গিয়েও শুধু আশ্বাস পেয়েছি, কাজ হয়নি। এবার প্রশাসক কথা দিয়েছেন, আমরা কাজ শুরু না হলে পৌরসভা ঘেরাও করব।”
সরকারি এমএম কলেজের দক্ষিণ গেটের সামনের রাস্তাটি নিয়েও অভিযোগের শেষ নেই। শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের প্রধান চলাচলের পথ হলেও রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন পড়ে আছে। ড্রেনের চেয়ে নিচু রাস্তায় সবসময় পানি জমে থাকে, এতে রাস্তাটি কাদা-পানিতে চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে খড়কী এলাকার বাসিন্দা এবং সরকারি এমএম কলেজের সহকারী অধ্যাপক হামিদুল হক জানান, “এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ যাতায়াত করে। পৌর প্রশাসকের কাছে গেলে তিনি জানান, টেন্ডার হয়েছে, বর্ষা শেষে কাজ শুরু হবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
ঘোপ ধানপট্টি বউবাজার, পোস্ট অফিসপাড়া ও নতুন বাজার এলাকার রাস্তাগুলোতেও একই অবস্থা। বৃষ্টির সময় এসব রাস্তায় হাঁটাচলা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এসব রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন বাজার করতে এবং শহরে যাতায়াত করতে হয় হাজারো মানুষকে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হক জানান, জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের সামনের রাস্তা সংস্কারের প্রস্তাব উঠানো হলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মোরাদ আলী বলেন, “বৃষ্টির কারণে সংস্কারকাজ বিলম্বিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে রাস্তা সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলেই কাজ শুরু হবে।”
শহরবাসীর প্রত্যাশা, পৌর কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে রাস্তাগুলোর সংস্কার কাজ শুরু করবে, যাতে করে নাগরিক ভোগান্তি কমে এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হয়।

