১২ জুলাই সাতক্ষীরায় ঐতিহাসিক সফরে এসেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ প্রায় দেড় শতাধিক কেন্দ্রীয় নেতা। তাদের আগমনে সাতক্ষীরায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ইতোমধ্যে টাঙানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও শুভেচ্ছা পোস্টার। শহরের প্রাণকেন্দ্র শহীদ আসিফ চত্বরে তৈরি করা হয়েছে একটি বিশাল তোরণ, যা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে পথচারী ও সাধারণ জনগণের।
শহীদ আসিফ চত্বরে এনসিপি প্রধান নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম কিছু নির্বাচনী আসনের লোভ দেখিয়ে আমাদের কিনে ফেলা যাবে। কিন্তু যারা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে, তাদের কিনতে বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের সাধ্য নেই।”
এসময় তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্ট আমরা জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে দরজা খুলে দিয়েছিলাম, বলেছিলাম—আসুন, জাতীয় সরকার গঠন করি, দেশটাকে পুনর্গঠন করি। কিন্তু তারা সে প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। তারা শুধু বলেছিল, তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন চাই, তারপর ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন চাই। ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারা ছাড়া দেশের সংস্কারে তাদের কোনো আগ্রহ আমরা দেখতে পাইনি।”
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা চাই না দেশের ভেতরে আর কোনো শত্রু তৈরি হোক। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়তে চাই। এখনো আমাদের দরজা খোলা আছে, তবে এবার যদি সেই দরজা বন্ধ হয়, তাহলে জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে না।”
সাতক্ষীরার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা উপকূলের মানুষ, ঘূর্ণিঝড় আর দুর্যোগের মধ্যেও দেশকে পাহারা দিয়েছেন। অথচ এখানকার মানুষ এখনও রেললাইনের সুবিধা পায়নি। ৫৪ বছরেও সাতক্ষীরায় রেললাইন পৌঁছায়নি—এটি লজ্জাজনক।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগের যে অব্যবস্থা সাতক্ষীরায় বিদ্যমান, তা পরিবর্তনের সময় এখনই। জলবায়ু পরিবর্তন, উপকূল সুরক্ষা এবং সুন্দরবন রক্ষায় জাতীয় নাগরিক পার্টি সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। সাতক্ষীরার মাটি ও মানুষের অধিকার রক্ষাই হবে আমাদের অগ্রাধিকার।”
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সাতক্ষীরার সফরের অংশ হিসেবে জুলাই-২৪ এর আন্দোলনে আহত ও নিহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পথসভা শেষে তারা নিউমার্কেট হয়ে হাটের মোড় পর্যন্ত একটি পদযাত্রা করেন।

