মো. এনামুল হক, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ে ভূমি জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় অগ্রণী ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা এবং একটি কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি করেছেন বাংলাদেশ সচিবালয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মির্জা আব্দুল বাকী।
পঞ্চগড় আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর খান মো. শাহরিয়ার জানান, বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) আদালতে জামিন নিতে এসে গ্রেফতার হন ঢাকা আগারগাঁও পরিবেশ ভবন শাখার অগ্রণী ব্যাংকের ম্যানেজার ফিরোজ উদ্দিন এবং প্রিন্সিপাল অফিসার শাহবুদ্দিন মাহমুদ।
অন্যদিকে শুক্রবার (১১ জুলাই) ঢাকায় অভিযান চালিয়ে পঞ্চগড় কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ মো. দেলদার হোসেন দিলুকে গ্রেফতার করে ডিএমপি’র একটি ডিবি টিম। তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল বলে জানিয়েছেন পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশিষ কুমার শীল।
ভুক্তভোগী মির্জা আব্দুল বাকীর অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র তার জমি দখলের উদ্দেশ্যে জাল বায়নামা ও এফিডেভিট তৈরি করে তার নামে মিথ্যা মামলা করে। পরে তারা অগ্রণী ব্যাংকে ভুয়া একাউন্ট খুলে মির্জার নাম ব্যবহার করে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, পাবনা ও বরিশালের বিভিন্ন ব্যাংকে চেক পাঠিয়ে অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা করে।
ঘটনার একপর্যায়ে সোনালী ব্যাংক, পঞ্চগড় শাখায় ২০ লাখ টাকা উত্তোলনের সময় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি সন্দেহজনক মনে করে বাতিল করে এবং মির্জার সঙ্গে যোগাযোগ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি আদালতে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন আনোয়ার হোসেন, জিয়াউর রহমান, জসিম উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন।
সিআইডি রাজশাহী, পিবিআই ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় ডিবির তদন্তে জানা যায়, ব্যাংক কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন ও শাহবুদ্দিন মাহমুদের সহায়তায় ভুয়া একাউন্ট খুলে প্রতারণা চালানো হচ্ছিল।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

