হুমায়ুন কবির মিরাজ, বেনাপোল
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নে ভিজিডি কর্মসূচির চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়েছে। রবিবার (১৩ জুলাই) সকালে বিতরণের সময় চালের বস্তায় নির্ধারিত ৩০ কেজির পরিবর্তে ২৫-২৭ কেজি করে কম ওজন পাওয়া গেলে উপকারভোগীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভুপালী সরকার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।
সরকারি বিধি অনুযায়ী, ভিজিডি কার্ডধারী প্রত্যেক উপকারভোগী নারীকে প্রতি মাসে একটি করে মোট ছয় মাসে ছয় বস্তা ৩০ কেজি করে চাল দেয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, চালের বস্তাগুলোতে কোথাও ৫ কেজি পর্যন্ত কম রয়েছে। উপকারভোগীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে সরাসরি অভিযোগ করেন।
রেখা খাতুন, এক উপকারভোগী, বলেন, “সরকার আমাদের ৩০ কেজি করে চাল দেয়, কিন্তু এখানে ২৫-২৬ কেজি করে দিচ্ছে। গরিবের জন্য বরাদ্দ এই চালেও যদি কম দেয়, তাহলে আমরা চলবো কীভাবে?”
নাজমা খাতুন বলেন, “প্রত্যেকবারই কম দেয়, এবার আর সহ্য করতে পারিনি। এটা গরিবের হক, কাটতে দেওয়া যাবে না।”
লাভলী খাতুন বলেন, “এখানে কেউ চোর, কেউ গাফিল, সব মিলিয়ে চাল চুরি হচ্ছে। আমরা প্রতিবাদ করেছি, যাতে ভবিষ্যতে আর এমন না হয়।”
ঘটনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভুপালী সরকার বলেন, “অভিযোগ পেয়ে নিজেই现场ে যাই এবং চালের বস্তা পরীক্ষা করি। সত্যিই অনেক বস্তায় ওজনে কম পাওয়া গেছে। আমি তাৎক্ষণিকভাবে বিতরণ বন্ধ করি এবং খাদ্য কর্মকর্তাকে সব চাল ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছি। সঠিক ওজনের চাল বুঝে পাওয়ার পরই তা বিতরণ করা হবে।”
এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই শংকরপুর ইউনিয়নে ভিজিডির চাল বিতরণে অনিয়ম চলে আসছে। স্থানীয় এক অসাধু ঠিকাদার সিন্ডিকেট এবং কিছু দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির গাফিলতির কারণে এমন ঘটনা বারবার ঘটছে বলে দাবি করেন তারা।
প্রশাসনের তৎপরতায় আপাতত বিতরণ বন্ধ থাকলেও এলাকাবাসী দ্রুত সঠিক ও নির্ভরযোগ্য উপায়ে চাল বিতরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

