মাদারীপুর প্রতিনিধি
মাদারীপুরের কালকিনিতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল কুরআন প্রতিযোগিতা, যেখানে অংশ নিয়েছে বিভিন্ন জেলার তিন শতাধিক মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। শনিবার দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে পূর্ব আলীপুর মোল্লারহাট নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা। পুরো আয়োজনটি ঘিরে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক উৎসবমুখর মিলনমেলায়।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য শরিয়তপুর, বরিশাল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জসহ আশপাশের জেলার বিভিন্ন মাদ্রাসায় দাওয়াত পাঠানো হয়। এতে সাড়া দিয়ে অংশ নেয় প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী। প্রতিযোগিতা শেষে বিচারকদের রায়ের ভিত্তিতে সেরা ২ জনকে স্বর্ণপদক, ৪ জনকে রৌপ্যপদক এবং ২০ জনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পাশাপাশি সব অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীকেই দেয়া হয় শান্তনা পুরস্কার।
ঢাকা থেকে আগত চারজন অভিজ্ঞ হাফেজ ও আলেম প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
শরিয়তপুর কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ওসমান লষ্কর বলেন, “আমি এখানে অংশ নিতে পেরে খুবই খুশি। ভবিষ্যতে বড় একজন হাফেজ হতে চাই। এই প্রতিযোগিতা আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে।”
কালকিনির বড় কালিনগর হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মেহেদি খান বলেন, “এই প্রথমবার অংশ নিচ্ছি কুরআন প্রতিযোগিতায়। এটা আমার জীবনের একটি বড় প্রাপ্তি। অনেক শিক্ষার্থী আসতে পারেনি, কিন্তু আমাদের মাদ্রাসা থেকে আমাকে নির্বাচিত করা হয়েছে, এটা আমার জন্য গর্বের বিষয়।”
অন্য এক প্রতিযোগী মাহাবুব ইসলাম বলেন, “প্রথম হওয়া না হওয়া বড় কথা নয়। এখানে এসে বিভিন্ন মাদ্রাসার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়েছে, পরিচয় হয়েছে – এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
প্রতিযোগিতার আয়োজক এবং মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি সিরাজ সরদার বলেন, “সবার মাঝে কুরআনের আলো ছড়িয়ে দিতেই এ আয়োজন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।”
অনুষ্ঠানে প্রবাসী আমেরিকান দাতা বিএম আলমগীর হোসেন এবং স্থানীয় জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

