যশোর প্রতিনিধি
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার জয়পুর এলাকার কোচবিলে অপরিকল্পিত ও অনুমোদনহীন মাছের ঘের নির্মাণের কারণে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে প্রায় এক হাজার হেক্টর তিন ফসলি কৃষিজমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার কৃষক পরিবার চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, একসময় বছরে তিনটি ফসল উৎপাদিত হলেও বর্তমানে অধিকাংশ জমি সারা বছর পানির নিচে থাকায় চাষাবাদ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী কয়েকজন ঘের ব্যবসায়ী পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে অবৈধভাবে মাছের ঘের গড়ে তোলায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষক আনসার আলী গাজী বলেন, একসময় তার তিন বিঘা জমিতে নিয়মিত তিন ফসল হতো। কিন্তু পাশের মাছের ঘেরের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় এখন আর কোনো ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে না।
একই অভিযোগ করেন কৃষক সাইফুল ইসলাম ও নজরুল সর্দার। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কার্যকর কোনো সমাধান পাননি। প্রতিবাদ করলে উল্টো হুমকি-ধমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।
কোচবিল কৃষক আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির বলেন, সরকারি হিসাবেই প্রায় এক হাজার হেক্টর জমির ওপর ৩০ হাজার পরিবারের জীবিকা নির্ভরশীল। অথচ মাত্র ১০ থেকে ১৫টি অবৈধ ঘেরের কারণে হাজারো কৃষক আজ সর্বস্বান্ত। তিনি অবৈধ ঘের উচ্ছেদ এবং পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, জলাবদ্ধতার আগে বছরে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ৩ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টনে নেমে এসেছে। এতে প্রতি বছর প্রায় ৩৩ কোটি টাকারও বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল মামুন বলেন, অনুমোদনহীন ঘের উচ্ছেদে মৎস্য বিভাগের সরাসরি আইনি ক্ষমতা নেই। এ বিষয়ে বিদ্যমান আইনে সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।
মণিরামপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন বলেন, এলাকায় কৃষক ও ঘের-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। নতুন করে কৃষিজমি ঘেরে রূপান্তর রোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি জানান।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, ভবদহ অঞ্চলে মাছের ঘের পরিচালনার জন্য সরকারি নীতিমালা রয়েছে। যারা ওই নীতিমালা অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

