শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
দৌলতদিয়ার সাতটি ফেরিঘাটের মধ্যে নদী ভাঙনের কারণে ১, ২, ৩ ও ৫ নম্বর ঘাট আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে। তীব্র স্রোতের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে ৬ নম্বর ঘাটটিও বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে কেবল ৪ ও ৭ নম্বর ঘাট দিয়ে ফেরি চলাচল করছে। তবে ৪ নম্বর ঘাটে সব সময় এবং সব ধরনের ফেরি ভিড়তে পারে না, কারণ স্রোতের তীব্রতা বেশি।
ফলে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় মহাসড়কে যানজট তৈরি হয়েছে। নদী পার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে দুই শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান। চালক ও সহকারীরা দীর্ঘ সময় আটকে থেকে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ক্যানাল ঘাট এলাকা পর্যন্ত পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি। দূরপাল্লার বাস ও জরুরি যানবাহন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার করায় এসব যানবাহন আটকে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
বেলা ১১টার দিকে আলাপকালে বেনাপোল থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ীগামী কেমিক্যালবোঝাই কাভার্ডভ্যান চালক স্বপন রেজা বলেন,
“মালিক বাড়তি খরচ দেয় না। তাই ঘন্টার পর ঘন্টা ঘাটেই বসে থাকতে হচ্ছে। না হলে পদ্মা বা যমুনা সেতু দিয়ে ঘুরে যেতাম।
একইভাবে মোংলা থেকে মানিকগঞ্জগামী গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই ট্রাকচালক মো. রিপন মিয়া জানান,
ভোর ৫টায় ঘাটে এসে আটকে আছি। দীর্ঘ সময় বসে থেকে খুব কষ্ট হচ্ছে।
কয়েকজন ফেরি মাস্টার জানান, আগের চেয়ে এখন নদী পার হতে প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগছে। স্রোতের বিপরীতে ফেরি চালাতে গিয়ে ইঞ্জিন বিকলের ঝুঁকিও বাড়ছে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন জানান,
বর্তমানে ৪ ও ৭ নম্বর ফেরিঘাট চালু রয়েছে। ৩ নম্বর ঘাট সচল করার চেষ্টা চলছে। এখন দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৮টি ফেরি চলাচল করছে। যাত্রীবাহী, কাঁচামাল ও জরুরি পণ্যবাহী গাড়িগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে পণ্যবাহী যানবাহনের জট দেখা দিয়েছে।

