নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদীর পলাশে এক বিধবা নারীর বাড়ি জোরপূর্বক দখল ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীকে মারধর, শ্লীলতাহানি ও চাঁদা দাবি করার অভিযোগও রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার বালুচর পাড়া গ্রামে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রাবেয়া বেগম আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি পলাশ থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর বরাতে জানা যায়, স্বামী সিরাজ হাজীর মৃত্যুর পর থেকে রাবেয়া বেগম তার স্বামীর রেখে যাওয়া তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় বসবাস করছিলেন। নিচতলা ভাড়া দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, সিরাজ হাজীর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী তাছলিমা বেগম স্থানীয় দালাল কামরুল ইসলাম ও ভাই বিল্লাল হোসেনের সহযোগিতায় ভাড়াটিয়াদের ভয়ভীতি দেখিয়ে উচ্ছেদ করে ভবনের নিচতলা জোরপূর্বক দখল করে।
ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, এ সময় আসামিরা আলমারির তালা ভেঙে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। বাধা দিলে তাকে শ্লীলতাহানি ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জমি দখল, নামজারি জালিয়াতি, চাঁদাবাজি ও মিথ্যা মামলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছে। প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয় কাজে লাগিয়ে তিনি বারবার আইনের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী রাবেয়া বেগম বলেন, “আমার স্বামী জীবিত থাকাকালীন সম্পত্তি নিয়ে কোনো বিরোধ ছিল না। স্বামীর মৃত্যুর পর তাছলিমা ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে আমাকে হয়রানি করছে। আমি এখন জীবননাশের ভয়ে আছি।”
এ বিষয়ে পলাশ থানার ওসি মনির হোসেন বলেন, “অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

