মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার নেহালপুর ইউনিয়নে সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় থাকা বহু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভুয়া কার্ডধারী হওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চালানো এক যাচাই-বাছাইয়ে ২১৩ জনের কার্ড পেন্ডিং হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাদের প্রতিবন্ধী হওয়ার কোনও সঠিক প্রমাণ মেলেনি।
গত ১৮ জুলাই বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় “মনিরামপুরে নেহালপুর ইউনিয়নে টাকার বিনিময়ে সুস্থ মানুষকে প্রতিবন্ধী বানিয়ে দেন” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। এরই ধারাবাহিকতায়, নেহালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে বিস্তৃত যাচাই-বাছাই কার্যক্রম।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই যাচাইয়ে উপস্থিত ছিলেন ৫৬৯ জন ভাতাভোগী। যাচাই শেষে প্রকৃত প্রতিবন্ধী হিসেবে চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন মাত্র ৩৫৬ জন। বাকি ২১৩ জনের কার্ডকে প্রাথমিকভাবে ‘ভুয়া’ বা ‘পেন্ডিং’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া, মোট ১ হাজার ১০ জন ভাতাভোগীর মধ্যে ৪৪১ জনই যাচাই-বাছাই বোর্ডে হাজির হননি, যা আরও সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, যাচাইয়ে অনুপস্থিতরা মূলত ভুয়া কার্ডধারী, এবং প্রশাসনের কড়াকড়ির কারণে তারা হাজির হননি। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
তদন্ত চলাকালে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান শওকত সরদার, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জি. এম. খলিলুর রহমান, সমাজসেবা অফিসের ফিল্ড সুপারভাইজার ফারুক হোসেন, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর জহিরুল ইসলাম, ইউনিয়ন সমাজকর্মী ও ইউপি সদস্যরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালে নেহালপুর ইউনিয়নে নতুনভাবে ৮১ জনকে প্রতিবন্ধী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অথচ এদের মধ্যে অর্ধেকই প্রতিবন্ধী নন। তারা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময় স্থানীয় প্রভাবশালী মেম্বার হীরা, সাবেক সমাজসেবা কর্মী কানন বালা এবং অফিসের মাঠকর্মী রেহেনা মিলেমিশে সম্পূর্ণ সুস্থ ব্যক্তিদের নামে কার্ড তৈরি করে সরকারের কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, “প্রাথমিক যাচাইয়ে অনেক অনিয়ম ধরা পড়েছে। যাদের কার্ড পেন্ডিং আছে, তারা যদি উপযুক্ত প্রমাণ দিতে পারেন, তবে পুনরায় যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে।” সমাজসেবা কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে আরও তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি।

