রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর হামলায় সাংবাদিকদের হত্যাকাণ্ড এবং গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে খুলনায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় খুলনা প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটির ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষার্থী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গাজায় সাংবাদিকদের ওপর এই বর্বরতা কেবল একটি পেশার ওপর হামলা নয়, এটি তথ্যের স্বাধীনতা, মুক্ত গণমাধ্যম এবং গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত। তারা বলেন, সাংবাদিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে সত্য প্রকাশকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন।
বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটির সভাপতি কৌশিক দে বলেন, গাজায় সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় ও কার্যকর ভূমিকা এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, বাংলাদেশেও সম্প্রতি বিভিন্ন জায়গায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। ঢাকায় প্রেস ক্লাবের সামনে, গাজীপুর এবং দেশের নানা প্রান্তে সাংবাদিকরা হামলার শিকার হচ্ছেন, যা উদ্বেগজনক। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে না পারলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়বে।
সংগঠনের সেক্রেটারি আনিসুল হক কবির বলেন, একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা মানে পুরো সমাজকে চোখ বন্ধ করতে বাধ্য করা। এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে শুধু একটি পেশা নয়, বরং মানুষের তথ্য জানার অধিকারও আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, দেশের ভেতরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
কালের কণ্ঠের সিনিয়র সাংবাদিক এইচএম আলাউদ্দিন বলেন, গাজা হোক বা বাংলাদেশের গাজীপুর, চিত্রটা ভয়াবহভাবে মিল খাচ্ছে। সাংবাদিকদের নির্যাতন করে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে স্তব্ধ করার চেষ্টা চলছে। এই চেষ্টাকে প্রতিহত করতে সাংবাদিক সমাজকে আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
খুলনা প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক বলেন, সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়। অথচ আজ পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অগ্রহণযোগ্য। আন্তর্জাতিক মহলকে এ বিষয়ে আরো সোচ্চার হতে হবে।
মানববন্ধনের শেষপর্যায়ে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে বিশ্বজুড়ে তথ্যের প্রবাহ ও মত প্রকাশের অধিকার হুমকির মুখে পড়বে। বক্তারা ঘোষণা দেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ও দমন-পীড়ন চলতে থাকলে তা শুধু সাংবাদিকতা নয়, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ভিত্তিকে ভেঙে ফেলবে।
মানববন্ধনে খুলনার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সবাই একমত পোষণ করেন যে, দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় এখনই সময় প্রতিবাদী কণ্ঠকে জোরদার করার।

