কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে সরকারি খাস জলমহাল নাজিরদিঘী দখলের অপচেষ্টা এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ শরীফুল আলমকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার উছমানপুর ইউনিয়নে নাজিরদিঘীর লিজগ্রহীতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন লিজগ্রহীতা মোঃ সাদিরুজ্জামান বাছির। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাজী আবুল কাশেম, সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আসাদ মিয়া, আবু বাক্কার ছিদ্দিক, নাজিরদিঘী পুকুরপাড় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি হাজী আঃ ছাত্তার, হাফেজ দীন ইসলাম, মজা পুকুর সমবায় সমিতির সভাপতি নূরুল আমীন, নূর মুহাম্মদসহ স্থানীয় গণ্যমান্যরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বাজিতপুর উপজেলার মৃত মুক্তিযোদ্ধা বেলায়েত হোসেনের ছেলে মোঃ মোশারফ হোসেন ভুয়া ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে নাজিরদিঘী নামে খ্যাত সরকারি খাস ২৪.৮৪ একর জলমহাল আত্মসাতের অপচেষ্টা করছেন। এমনকি তিনি আদালতের পুরনো মামলার নথিপত্রও জাল করেছেন বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
তাঁরা বলেন, নাজিরদিঘী দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস সম্পত্তি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত এবং নিয়মিত লিজের মাধ্যমে সরকার রাজস্ব আদায় করছে। অতীতে মোশারফ হোসেন নিজেও অন্যদের সঙ্গে যৌথভাবে এই দিঘী লিজ নিয়ে মাছ চাষ করেছেন, যা প্রমাণ করে এটি কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি নয়।
বক্তারা আরও বলেন, সম্প্রতি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে মোশারফ হোসেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশে শরীফুল আলমের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগ এনেছেন, যা তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম নষ্টের অপচেষ্টা।
সংবাদ সম্মেলনে মোশারফ হোসেনকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে ঘোষণা দেন বক্তারা। একইসঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

